আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ‘বৈষম্য-নিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এটি প্রণয়নের ক্ষেত্রে পূর্বের আইনগুলোর সঙ্গে কিছুটা বৈরীতা আছে। সেগুলো সমাধান করে এ বছরের মধ্যেই আইনটি প্রণয়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
যৌনকর্মী, হিজড়া, দলিতসহ দেশের প্রায় ৭০ লাখ লোক প্রতিনিয়তই কোনো না কোনোভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। সমাজের নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত নিপীড়িত এ মানুষগুলোর জন্যই ‘বৈষম্য-নিরোধ আইন’ প্রণয়নটা সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই আইনের মধ্যে যেসব ধারায় দুই বছর পর্যন্ত সাজা দেওয়ার ব্যবস্থা আছে, তা মোবাইল কোর্টের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে যাদের মামলা থানায় নেওয়া হয় না তাদেরকে কোর্টে মামলা করারও পরামর্শ দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বৈষম্য নিরোধ আইন মানবাধিকার সুরক্ষায় বলিষ্ঠ পদক্ষেপ’ শীর্ষক জাতীয় আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
আনিসুল হক এতে বলেন, ‘সংবিধান সকল শ্রেণির মানুষের জন্য নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করলেও, সুবিধাবঞ্চিত বৈষম্যের শিকার কিছু মানুষ রয়েছে। তাদের অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই আইন প্রণয়ন জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আইন করার সঙ্গে সঙ্গেই সবকিছু পরিবর্তন হবে না। এ জন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন আনতে হবে। মানসিকতার পরিবর্তন না হলে আইন প্রণয়ন করে কোন লাভ নেই। এই আইন প্রণয়ের পর, এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বিষয়ের নীতিমালারও পবির্তন আনতে হবে।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম এমপি, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য ও বিশিষ্ট কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন, আইন কমিশনের সদস্য ড. মো. শাহ আলম, ব্লাস্টের নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম প্রমুখ।
এসএইচ





