চট্টগ্রাম বন্দরে আটক সানফ্লাওয়ার তেলের সেই চালানের একটি ড্রামে কোকেন পাওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক তদন্ত করবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এজন্য জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর থেকে আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন এবং চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে রক্ষিত কন্টেইনারটির নিরাপত্তা জোরদার করতে বন্দর চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হোসাইন আহম্মদ বলেন, তেলের সঙ্গে মিশিয়ে কোকেন নিয়ে আসার ঘটনা আন্তর্জাতিক তদন্তের উদ্যোগ নিচ্ছে এনবিআর।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে জাতিসংঘের কাছে এ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। রোববার চিঠি পাঠানো হতে পারে।
কোকেন সন্দেহে গত ৬ জুন রাতে কনটেইনারটি বন্দরে সিলগালা করে শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। ৮ জুন এটি খুলে ১০৭টি ড্রামের প্রতিটিতে ১৮৫ কেজি করে সানফ্লাওয়ার তেল পাওয়া যায়। তেলের নমুনা প্রাথমিক পরীক্ষা করে কোকেন শনাক্ত না হওয়ায় পরীক্ষাপদ্ধতি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং পুলিশ কর্মকর্তারা।
ফলে অধিকতর পরীক্ষার জন্য সব কটি নমুনা দুটি পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এরপর শনিবার একটি নমুনায় তরল কোকেনের উপস্থিতি পাওয়া যায় ।
বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) এবং বাংলাদেশ ড্রাগ টেস্টিং ল্যাবরেটরিতে পৃথক পরীক্ষায় বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
প্রাথমিক পরীক্ষায় কোকেনের উপস্থিতি না পাওয়ায় তখনই শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ধারণা করেছিল তেলের সঙ্গে কেমিক্যাল মিশিয়ে কোকেন আনা হয়েছে। তাই অধিকতর উন্নত ল্যাবে কেমিক্যাল পরীক্ষার সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে রহস্যজনক চালানটির শেষ গন্তব্য বাংলাদেশ নয় বলেও জানিয়েছিল শুল্ক গোয়েন্দা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। তখন তারা জানিযেছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে সেটি অন্য কোন দেশে পাচার করা হতো। একটি পক্ষ সেই চেষ্টাও করেছে।
পুলিশ সদর দফতরের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারি বলেছিলেন, কন্টেইনারটির শেষ গন্তব্য বাংলাদেশ নয়। অন্য কোন দেশে নিয়ে যাওয়ার জন্যই এখানে আনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা চালানটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্র জড়িত। ফলে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে।
বলিভিয়া থেকে সানফ্লাওয়ার তেলের চালানটি উরুগুয়ের মন্টিভিডিও বন্দর হয়ে গত ১২ মে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের খান জাহান আলী লিমিটেডের নামে চালানটি আনা হয়। তবে এ ধরণের কোন পণ্য চালান আমদানি করেনি বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ।
জেআই





