কুড়িগ্রামে ধরলা ও তিস্তা নদীর পানি সামান্য হ্রাস পেলেও চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার বন্যা-পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। কমেনি বানভাসিদের দুর্ভোগ। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা আকাশের নিচে নিদারুণ কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।

রোববার সকালে রাজিবপুর উপজেলার শিবেরডাংগী এলাকায় ১০০ মিটার পাকা সড়ক ধসে যাওয়ায় রৌমারী-ঢাকা রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। প্লাবিত হয়েছে আরও ১০টি গ্রাম। জেলার ৯ উপজেলার ৫৯ ইউনিয়নের ৫৮ হাজার পরিবারের প্রায় ৩ লাখ মানুষ ১৭ দিনের টানা বন্যায় পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। প্লাবিত হয়ে পড়েছে ১ হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা। ২শ’ ১১ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা সড়ক তলিয়ে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে ৩৮ হাজার রোপা আমনসহ মৌসুমী ফসল। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ জনপদের দেড় শতাধিক হাট বাজার। এ অবস্থায় খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও ওষুধের সংকটে পড়েছে বন্যাকবলিত মানুষজন। বন্যা দুর্গত এলাকায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ।

উলিপুর উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জমিলা বেগম জানান, এখন পর্যন্ত কোন ত্রাণ পাই নাই। ৪ দিন থেকে চিড়া খেয়ে বেঁচে আছি।

বন্যার পানি দ্রুত নেমে না যাওয়ায় ঘরে ফিরতে পারছে না বানভাসিরা। কলা গাছের ভেলা, নৌকা, বাঁশের মাচান ও বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদ জানান, বানভাসিদের জন্য সাড়ে ৯শ’ মেট্রিক টন চাল ও ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এখন পর্যন্ত সাড়ে ৭শ’ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৭ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। জেলায় বন্যার্তদের জন্য ৮৫টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-প্রকৌশলী সবিবুর রহমান জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ২২ সেন্টিমিটার, কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৪ সেন্টিমিটার এবং নুন খাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি ১৯ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।

ঢাকা, ৩১ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই