বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) রাজধানীতে আষাঢ়ের প্রথম দিনে সকাল থেকেই আকাশ গুরুগম্ভীর। এ যেন আষাঢ়েরই রূপ।

গ্রীষ্মের খরতাপের ধূসর নাগরিক জীবন আর প্রকৃতিতে প্রাণের স্পন্দন জাগায় বর্ষা। জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড খরতাপে রুক্ষ প্রকৃতি বর্ষার বর্ষণের মৃদঙ্গ-ছোঁয়ায় সজীব হয়ে ওঠে। পুরো প্রকৃতি তার রূপ ও বর্ণ বদলে ফেলে। বর্ষা বাঙালি জীবনে নতুন প্রাণসঞ্চারকারী।

বাংলার বর্ষা একেবারেই নিজস্ব। এটি এমনই এক ঋতু, যে কাউকে উদাস করে ফেলে। বর্ষা ঋতু আনন্দ-বেদনার সারথী। মনের ভেতরে লুকানো নিগূঢ় কোনো দুঃখবোধকে এক নিমিষে জাগিয়ে তুলতে পারে বর্ষা। আবার তা ধুয়েমুছে সাফও করে দিতে পারে।

পুষ্প-বৃক্ষে-পত্রপল্লবে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে নতুন সুরের বার্তা নিয়ে এসেছে বর্ষা। কবির মনেও গভীর ছায়া ফেলে এ ঋতু। তাইতো বর্ষাকে ঘিরে শত-সহস্র কবিতা লেখা হয়েছে বাংলা সাহিত্যে।

কবিগুরু রবিঠাকুরের ভাষায়, ‘ঐ আসে ঐ ঘন গৌরবে নবযৌবন বরষা, শ্যাম গম্ভীর সরসা…’

আষাঢ়ের রিমঝিম বৃষ্টি গ্রীষ্মের ধুলোমলিন জীর্ণতাকে ধুয়ে ফেলে গাঢ় সবুজের সমারোহে প্রকৃতি সাজে পূর্ণতায়। পুকুর-বিলে ফোটে শাপলা-পদ্ম আর কেয়ার বনেও কেতকীর মাতামাতি। বর্ষা ঋতু তার বৈশিষ্ট্যের কারণে স্বতন্ত্র। বর্ষায় প্রবল বর্ষণে নির্জনে ভালোবাসার সাধ জাগে, চিত্তচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তাই বর্ষাবিহীন বাংলাদেশ ভাবাই যায় না।

‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’- বর্ষার অঙ্গশোভা। কেতকীর মন মাতানো সুবাস, জুঁই, কামিনী, বেলি, রজনিগন্ধা, দোলনচাঁপা আর কদমফুলের চোখ জুড়ানো শোভা আষাঢ়ের অনুষঙ্গ হয়ে আছে।

কবি জীবনানন্দ দাশ আষাঢ়কে বলেছেন, ‘ধ্যানমগ্ন বাউল-সুখের বাঁশি’।

বৃষ্টিস্নাত কদম ফুলের সৌন্দর্য্য নিয়ে পল্লীকবি জসীমউদদীন লিখেছেন, ‘বনের ঝিয়ারি কদম্বশাখে নিঝঝুম নিরালায়, ছোট ছোট রেণু খুলিয়া দেখিছে, অস্ফুট কলিকায়।’

বর্ষা ঋতুতে গ্রামের নদী নালা পুকুরে জল জমে থৈ থৈ করে। কখনও আবার নদীর তীর উপচে ধেয়ে আসে বন্যা। তখন গ্রাম বাংলার সাধারণ মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না।

তবুও গ্রীষ্মের তাপদাহ পেড়িয়ে বর্ষায় বারিধারায় শান্তি খুঁজে পায় মানুষ। সবুজের সমারোহে, মাটিতে নতুন পলির আস্তরণে বর্ষা আনে জীবনেরই বারতা। এই বর্ষাকে আজ স্বাগতম।

এন