প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমি শেখ হাসিনা জাতির পিতার কন্যা দুর্ণীতি করার জন্য ক্ষমতায় আসি নাই।”
রোববার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দান মাঠে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
যশোরে ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।
জনসভায় শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্ণীতি হচ্ছে বলে বিশ্ব ব্যাংকের মাধ্যমে মিথ্যা অভিযোগ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল।
“কিন্তু আমি স্পষ্টভাষায় জানিয়েছিলাম যে পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোন দুর্ণীতি হয়নি। আজকে সেটা প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার ছেলে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছিল। আর ধরা খেয়েছে আমেরিকায়। প্রমাণিত হয়েছে তারা ঘুষ খেয়েছে, দুর্ণীতি করেছে।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চলমান অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্ণীতি মামলার প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, তার মা ও (খালেদা জিয়া) কম যায় না। এতিমের টাকা এতিমখানায় যায় না, কোথায় যায় আপনারা জানেন।
তিনি বলেন, বাংলায় একটি কথা আছে, ভুতের পা পেছন দিকে চলে। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে তারা অদ্ভুতভাবে দেশ চালায় এবং দেশ পেছনের দিকে যায়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকলে দেশে খুন-খারাবি-অত্যাচার-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। হত্যা, খুন, মানুষ পোড়ানো এগুলোই হলো বিএনপির কাজ।
দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, কারো কাছে ভিক্ষা চেয়ে বাঙ্গালি চলবে না – এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, আমার হারানোর কিছু নেই, দেশের জন্য কাজ করতে চাই।
তিনি বলেন, ৭৫এর পর ক্ষমতা আকড়ে ধরে মানুষকে নির্যাতন করে বিএনপি, দেশে লুটপাটের রাজত্ব করে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করে।
শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে দেশের ইতিহাসকে বিকৃত করে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করে, এমনকি জাতির পিতার ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে বিকৃত করার চেষ্টা করে।
শেখ হাসিনা সবাইকে আশ্বাস দিয়ে বলেন, আওয়ামী ক্ষমতায় আসলে মানুষের কল্যাণে কাজ করে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নয়ন হয়।
তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশকে দারিদ্রমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। আমাদের লক্ষ্য দেশকে একটি উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকায় ভোট চান শেখ হাসিনা। তিনি সবাইকে হাত তুলে নৌকায় ভোট দেয়ার প্রতিশ্রুতিও নেন।
কেবি





