প্রযুক্তি বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে আরো আধুনিক হচ্ছে, জাতীয় সংসদ গ্রন্থাগার। সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে সংসদ গন্থাগার অনলাইন প্রযুক্তিতে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ২০১৪ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর লাইব্রেরি কমিটির ৪র্থ বৈঠকে উত্থাপন করেন কমিটি সদস্য ড. হাছান মাহমুদ। তার প্রস্তাবকে সমর্থন করে অপর সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল।
তাদের প্রস্তাবে কমিটি সভাপতি ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া গুরুত্বারোপ করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়কে নির্দেশ দেন।
কমিটিতে উত্থাপিত বিষয়ে সাড়া দিয়ে সংসদ সচিবালয় সংসদ গ্রন্থাগারকে অনলাইন লাইব্রেরিতে রূপান্তর করার প্রয়াসে অতিরিক্ত সচিবের (এফঅ্যান্ডপিআর) নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দেশের সাতটি গ্রন্থাগার পরিদর্শন করে সুপারিশসহ প্রতিবেদন ডেপুটি স্পিকারের কাছে পেশ করেন।
পরবর্তীতে ডেপুটি স্পিকার সুস্পষ্ট কর্ম-পরিকল্পনা তথা প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরির জন্য পরিচালককে (গ্রন্থাগার ও গবেষণা) নির্দেশ দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত নির্দেশের একটি কপি ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদের অধিশাখায় পাঠানো হয়। এ নির্দেশ বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ, ২৫ ফেব্রুয়ারি লাইব্রেরি কমিটির পঞ্চম বৈঠকে বিষয়টি ফের উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা কমিটিকে অবহিত করে বলেন, লাইব্রেরি অনলাইনে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। অচিরেই এর বাস্তবায়ন দেখা যাবে। জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ড. হাছান মাহমুদ তার প্রস্তাবে বলেন, গ্রন্থাগারকে অনলাইনে রূপান্তরিত হলে এর ব্যবহারে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংসদ সদস্যরা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকেন। তাই, গ্রন্থাগারে সময় দেওয়ার মতো সুযোগ হয়ে ওঠে না। অনলাইন করা হলে সংসদ সদস্যরা তাদের আইপ্যাড বা ট্যাবলেটের মাধ্যমে বই পড়তে পারবেন।
সংসদ গ্রন্থাগারের সব বই এক সঙ্গে এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব না হলে অন্তত ১০০টি বই দিয়ে হলেও এটা করা দরকার। এটি করা হলে গ্রন্থাগারের ব্যবহার অনেক গুণ বেড়ে যাবে।
এ ছাড়া জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পর্যাপ্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। লাইব্রেরি কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতীয় সংসদের সিনিয়র সহকারী সচিব এ এস এম হুমায়ুন কবীর ২৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান বরাবর চিঠি দেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সংসদ ভবনে সব পর্যায়ের ভিভিআইপি অবস্থান করে থাকেন। কিন্তু ভবনের গ্রন্থাগার কক্ষসহ বিভিন্ন স্থান মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতার বাইরে রয়েছে। এমতাবস্থায় সবার সঙ্গে যোগাযোগ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এজন্য সংসদ এলাকায় সব মোবাইল টেলিকম অপারেটর কোম্পানির নেটওয়ার্কের আওতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। অচিরেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ইআর





