ব্যাংক, বীমাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি চাকুরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটার দাবি জানিয়েছে এডিডি ইন্টারন্যাশনাল ও জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থা।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রাইভেট ও কর্পোরেট সেক্টরের ভূমিকা' শীর্ষক এক সেমিনারে এ দাবি জানায় প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা এই দুই সংগঠন।

সেমিনারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব এম এম সুলতান মাহমুদ বলেন, “দেশের সম্ভ্রান্ত ও ধনী পরিবারে কোন সন্তান প্রতিবন্ধী হলে বাবা মায়েরা তা গোপন করতে চান, স্বীকার করতে কুণ্ঠাবোধ করেন। প্রতিবন্ধীরাও মানুষ তাদের লুকিয়ে রাখার কিছু নেই। অন্যদের সাথে তাদের মেশার সুযোগ করে দিতে হবে।”

‘অনেক সময় অভিভাবকেরা প্রতিবন্ধী সন্তানকে উত্তরাধিকার সম্পদ থেকে বঞ্চিত করছে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৮ লক্ষ প্রতিবন্ধী রয়েছে যাদের মধ্যে ৭ লক্ষ প্রতিবন্ধীকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে।’

এডিডি ইন্টারন্যাশনালের হেড অব প্রোগ্রাম আব্দুস সালাম মিঞা বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ন্যূনতম কর্মসংস্থানের হার অপ্রতিবন্ধীদের তুলনায় এক চতুর্থাংশেরও কম এবং ৮৭ শতাংশ ব্যক্তি প্রতিবন্ধিতার শিকার হলে এক বছরের মধ্যেই কাজ থেকে ছাটাই করা হয়। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রায় ৯৮ শতাংশ পূর্ণ বা ছদ্ম বেকার রয়েছে।”

“প্রতিবন্ধীদের এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ও সমাজের মূলধারায় প্রবেশের সুবিধার্থে বেসরকারি খাতে পাঁচ শতাংশ কোটা বরাদ্দ রাখতে হবে।”

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে বশির আল হুসাইন বলেন, “প্রাইভেট ও কর্পোরেট সেক্টরে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের কর্মসংস্থান গুরুত্ব পূর্ণ বক্তব্য রাখতে পারে। আর এর জন্য ব্যাংক,বীমা,ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি চাকুরিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধীদের জন্য পাঁচ শতাংশ কোটার প্রবর্তন করতে হবে।”

সাথে সাথে প্রতিবন্ধী ব্যাক্তিদের জন্য জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করার দাবিও জানান তিনি।

আব্দুস সালাম মিঞার সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খুদেস্তা নূর ই নাহরিন ও আক্তার ফার্ণিচারের কো অর্ডিনেটর আনোয়ারুল হক।

ইআর/এমআইএস