কতিপয় শিক্ষকের বিবেক বুদ্ধি অতিমাত্রায় লোপ পাওয়ার কারনে এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণে গলাকাটা ফি আদায় করছেন। অতিরিক্ত ফি নিয়ে সহকারী শিক্ষকরা আপত্তি জানালেও তা মানতে নারাজ প্রধান শিক্ষকরা। লালমনিরহাট জেলাধীন ৫ টি উপজেলায়

বোর্ডের নির্ধারিত ফি ছাড়াও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো অতিরিক্ত ফি আদায় করায় বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অবিভাবকের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। নিম্ন আয়ের অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের চাপিয়ে দেয়া অতিরিক্ত ফি দিয়ে সন্তানদের ফরম পূরণ করাতে হিমশিম খাচ্ছেন। টাকার কথা শুনে প্রতিবাদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন অভিভাবকরা।

(কোচিংফিসহ) ৩২৫০ টাকা ফি নির্ধারন করে তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হাতীবান্ধা এসএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় আর (কোচিংফি ছাড়া) ১৯৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করে নিম্নে রয়েছে নওদাবাস কে,এম,এস,সি উচ্চ বিদ্যালয়।পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে একই চিত্র পাওয়া গেছে।

বোর্ডের ওয়েব সাইটে গিয়ে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের নিয়মিত এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের ফি- প্রতি বিষয় ৮০ টাকা, ব্যবহারিক ফি ৩০ টাকা, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ফি ৩৫ টাকা, মূল সনদ ফি ১০০ টাকা, স্কাউট ফি ১৫ টাকা, শিক্ষা সপ্তাহ ফি ৫ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বোর্ডের নির্ধারত ফির পরিমাণ সর্ব সাকুল্যে মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ১৭২৫ টাকা আর বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ১৮৪৫ টাকা। এর পরেও অনেক উচ্চ বিদ্যালয়ে মন গড়া ফি নির্ধারণ করে রশিদ ছাড়াই প্রায় ১ হাজার টাকা বেশি নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। যথা সময়ে পরীক্ষার ফি দিতে না পেরে এনিয়ে অভাবী পরিবারের কমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এদিকে মানবিক-বিজ্ঞান বিভাগে-

হাতীবান্ধা এসএস মডেল উচ্চ বিদ্যালয় (কোচিং ফিসহ) নিচ্ছেন ৩১৫০-৩২৫০ টাকা, ভবানীপুর ছেফাতিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা ২৫৫০-২৬৫০ টাকা, বড়খাতা উচ্চ বিদ্যালয় ২৫৫০-২৬৫০ টাকা, পাটিকা পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় ২৫৫০-২৬৫০ টাকা, গড্ডিমারী উচ্চ বিদ্যালয় ২২৬৫-২৩৫৫ টাকা, জাওরানী উচ্চ বিদ্যালয় ২২৫০ টাকা, সিন্দুর্না লোকমান হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় ২০৫০-২১৫০ টাকা,

শাহগরীবুল্লাহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ২২০০-২৩০০ টাকা, হাতীবান্ধা আলিম মাদ্রাসা ২২৫০ টাকা, দোয়ানি উচ্চ বিদ্যালয় ২০১৫-২১০৫ টাকা, আলহাজ্ব শমসের উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় ২১৫০-২২৫০ টাকা, হাতীবান্ধা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ১৯০৫-২০০৫ টাকা, গোতামারী উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৫৫-২০৬৫ টাকা এবং নওদাবাস কে,এম,এস,সি উচ্চ বিদ্যালয় ১৮৫০-১৯৫০ টাকা।

ম্যানেজিং কমিটি আর গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে কিছু কিছু শিক্ষার্থী ২-৩ শত টাকা কম দিতে পারলেও সংখ্যায় তা অপ্রতুল।

একাধিক অভিভাবক জানান, এক সঙ্গে ফরম পূরণের এতগুলো টাকা দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব কষ্টকর। শিক্ষকদের কাছে বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বোর্ডের নিয়মেই ফরম পুরণের টাকা নেয়া হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে ওই অভিভাবকরা ধারদেনা করে ছেলের ফরম পূরণের টাকা দিয়েছেন বলে জানান।

বেশ কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির যোগসাজসে ফরম পূরণ বাবদ বাড়তি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

হাতীবান্ধা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তৈয়ব আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড কতৃপক্ষ এ সংক্রান্ত বিষয়ে গোপনে তদারকি করবে বলে জেনেছি।স্কুল কমিটির কতিপয় সদস্যও প্রধান শিক্ষকরাই মূলত গলা কাটা ফি আদায় করছেন।

দোহা/জেড