ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনার পর পরিচয় গোপন করে চালক তাছের উদ্দিন ও সহকারী চালক অপু দে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, চালক ও তার সহকারী একই বেডে তারা শুয়ে আছেন। ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত কি না প্রশ্ন করতেই অপু দে বলেন, প্লিজ আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত, আমাদের একা থাকতে দিন। নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভোলার বাপদা গ্রামে তার বাড়ি।
তার বাবার নাম কৃপাচার্য দে। অপরজনের বাড়ি মানিকগঞ্জ বলে তিনি জানান। এ সময় মিথ্যা তথ্য দিয়ে তারা বলেন, তারা ওই ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। তবে কথা বলার সময় তাছের বারবার কপাল চাপড়াচ্ছিলেন। তাদের ভীষণ হতাশাগ্রস্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হচ্ছিল।
দুর্ঘটনাস্থল থেকে তাদের বহনকারী আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত একাধিক ব্যক্তিকে তিনি আখাউড়ায় নিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে চালক তাছের ও সহকারী চালক অপু দে ছিল তা বুঝতে পারেননি। তাদের নাম-ঠিকানা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বুঝতে পারেন।
সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে মন্দভাগ রেলস্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। ৭৪ জন আহত হন।
এ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী তূর্ণা নিশীথা ট্রেনের লোকোমাস্টার তাছের উদ্দিন, সহকারী লোকোমাস্টার অপু দে ও গার্ড আবদুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনা তদন্তে পাঁচটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের দুটি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের একটি, সরকারি রেল পরিদর্শকের একটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসনের একটি কমিটি রয়েছে।
এম





