কেন্দ্রে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ, ভাঙচুর, প্রিসাইডিং অফিসারসহ নির্বাচনি কর্মকর্তাদের পক্ষাবলম্বনের অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তৃতীয় দফার পৌরসভা নির্বাচন। এই ধাপের ৬২ পৌরসভায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে একটানা ভোটগ্রহণ চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শেষে চলছে গণনার কাজ।

তৃতীয় ধাপের সবগুলো পৌরসভায় ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ করা হয়। অনিয়ম ঠেকাতে ভোটের দিন সকালে কেন্দ্রে কেন্দ্র ব্যালট পেপার পাঠায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তারপরও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার কুতুবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের মতো কয়েকটি কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারের বিরুদ্ধেই নিজেরাই সিল মেরে ভোটের বাক্স ভরে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এছাড়াও লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভায় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাজিরখীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষে সংঘর্ষ ও গোগুলির ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের ভুঞাপুরে কাউন্সিল প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলায় নারীসহ ১০ জন আহত হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কেন্দ্রে সরকারি দলের মেয়র প্রার্থীর সঙ্গে দরীয় প্রতিপক্ষ বা অন্য দলের মেয়র প্রার্থীর, কোথাও কাউন্সিলর প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের সংর্ঘষ ঘটেছে।

মুন্সীগঞ্জে পৌরসভা নির্বাচনে জোর করে ব্যালট ছিনিয়ে নৌকা প্রতীকে সিল মারা ঠেকাতে না পারায় এক সহকারী প্রিজাইডিং ও এক পোলিং অফিসারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তারা হচ্ছেন- সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এমরান আলী ও পোলিং অফিসার মজিবর রহমান।

এছাড়াও টাঙ্গাইলের মধুপুর ও বরিশালের গৌরনদীসহ বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে ভোট বর্জন করেছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩ হাজার ৩৪৪ জন প্রার্থী তৃতীয় ধাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে ২২৯ জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৫৫ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৩৬০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ইতোমধ্যে তৃতীয় ধাপে ৩৭ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে কুমিল্লার লাকসাম, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। এছাড়া ৯ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এবং ২৫ জন সাধারণ কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেন।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। ৬২ পৌরসভায় ৬২ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে মোট পাঁচদিনের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগের দুদিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুদিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন।

যে ৬২ পৌরসভায় ভোট হয়েছে সেগুলো হলো- কুড়িগ্রামের উলিপুর, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, দিনাজপুরের হাকিমপুর, নীলফামারীর জলঢাকা, বগুড়ার ধুনট, শিবগঞ্জ, গাবতলী, কাহালু ও নন্দীগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর, নওগাঁর সদর ও ধামইরহাট, পাবনা সদর, চুয়াডাঙ্গার সদর ও দর্শনা, ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু ও কোটচাঁদপুর, যশোরের মণিরামপুর, রাজশাহীর মুন্ডুমালা ও কেশরহাট, নাটোরের সিংড়া, নড়াইলের সদর ও কালিয়া, বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, খুলনার পাইকগাছা, সাতক্ষীরার কলারোয়া, বরিশালের গৌরনদী ও মেহেন্দিগঞ্জ, ঝালকাঠির নলছিটি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠী, বরগুনার সদর ও পাথরঘাটা, ভোলার বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান, টাঙ্গাইলের সদর, মির্জাপুর, ভূঞাপুর, সখিপুর ও মধুপুর, জামালপুরের সরিষাবাড়ী, শেরপুরের নকলা ও নালিতাবাড়ী, ময়মনসিংহের ভালুকা, গৌরীপুর ও ঈশ্বরগঞ্জ, নেত্রকোনার দুর্গাপুর, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী, মুন্সীগঞ্জের সদর, রাজবাড়ীর পাংশা, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া, শরীয়তপুরের নড়িয়া, ভেদরগঞ্জ ও জাজিরা, সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও জকিগঞ্জ, মৌলভীবাজারের সদর, কুমিল্লার বরুড়া ও চৌদ্দগ্রাম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, ফেনীর সদর, নোয়াখালীর হাতিয়া ও চৌমুহনী এবং লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ।

উল্লেখ্য, দেশের ৩২৯টি পৌরসভার মধ্যে প্রথম ধাপে ২৪টি পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয় ২৮ ডিসেম্বর। দ্বিতীয় ধাপে ৬০টি পৌরসভায় ভোট হয় ১৬ জানুয়ারি। চতুর্থ ধাপে ৫৬টি পৌরসভার ভোট হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ২৮ ফেব্রুয়ারি ৩১টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

এমবি