দেশে নারীর উপর নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে যুগোপযুগী আইন প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে মঙ্গলবার দুপুরে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা রুখো, নারী অধিকার সুরক্ষায় আইনের কঠোর বাস্তবায়ন চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।

সভায় লিখিত বক্তব্যে মহিলা পরিষদের সহ-সম্পাদক রাখি দাস পুর কায়স্ত বলেন, পুরুষদের নারী নির্যাতন প্রতিরোধে এগিয়ে আসা হবে, পাশাপাশি নির্যাতনে ভীত না হয়ে নারীদের সাহসীকতার সাথে তা মোকাবেলা করতে হবে।

তিনি বলেন, নারী নির্যাতন কমাতে পাঠ্যসূচীতে নারী নির্যাতন বিরোধী লেখা উপস্থাপন করতে হবে, সম্পত্তিতে নারীর সমানা অধিকার প্রদান করতে হবে, ফতোয়ার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে কার্যকর করে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, নারী উন্নয়ন নীতিমালার উপর আইন প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করতে।

নারী নির্যাতন প্রতিরোধে বিদ্যমান আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না জানিয়ে তিনি বলেন, নারীরা ফতোয়াবাজীর হাতে নিগৃহিত হচ্ছে। যৌতুক বিরোধী আইন ও নারী নির্যাতন বিরোধী অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় প্রতিদিন নারীরা অকাল মৃত্যুবরণ করছেন।

তিনি বলেন, নারীদের জন্য গঠিত পারিবারিক আদালত নারী বান্ধব না হওয়ার কারণে নারীরা সুবিচার পাচ্ছে না। এসিড নিক্ষেপ বিরোধী আইন বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে নারীরা এসিড সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে, পঙ্গুত্ববরণ করছে। আইনের প্রয়োগের অভাবে অপরাধীরা রক্ষা পায়। আর উত্যক্ত হয়ে নারীরা আত্নহত্যা করছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, অপরাধীরা গ্রেফতার না হওয়ায় এ ধরণের অপরাধ বাড়ছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সারা বছরই নারীদের উপর শারীরীক সহিংসতা বাড়ছে।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হাসান বাদশা বলেন, পহেলা বৈশাখে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে গেল, অথচ এটা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কোন কথা বললো না। কোন সাংসদও কথা বললো না।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদ আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য বিমল বিশ্বাস, নারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি লুৎফুন্নেসা খান, নারী সমাজের সভাপতি অধ্যাপক মাহফুজা খানম, নারী মুক্তি সংসদের সভাপতি হাজেরা সুলতানা, জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য শিরিন আখতার প্রমুখ।

এমএ/এসএইচ