ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পুলিশ কনস্টেবল মামনি আকতার মনিরার গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুরের ভবানীপুরে এখনো চলছে আহাজারি ও শোকের মাতম। এলাকাবাসী চোখের জলে চিরবিদায় জানায় মনিরাকে।

সোমবার সকাল ১০টায় স্থানীয় ভবানীপুর মাদরাসা মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকার রাজারবাগে পুলিশ লাইনে জানাজা শেষে মনিরারমরদহে নিজ গ্রাম পার্বতীপুরের ভবানীপুরে রোববার রাত ১১টায় এসে পৌঁছায়। সে সময় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আত্মীয় স্বজনের পাশাপাশি প্রতিবেশীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জানাজায় অংশগ্রহণ করেন জেলা পুলিশের পক্ষে পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল আলম, কমিউনিটি পুলিশিং দুর্জয় ৭১ এর সভাপতি আওরঙ্গজেব লুলু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, ভবাণীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

ভবাণীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়াম্যান মো. নুরুজ্জামান চৌধুরী জানান, মনিরার পরিবার ছিল সকলের কাছে অনুকরণীয়। সংসারে অভাব থাকলে পরিবারটিকে অপরাধ স্পর্শ করতে পারেনি। কষ্টের সংসারে মনিরা হাল ধরেছিল। কিন্তু মনিরার মৃত্যুতে পরিবারের সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।

জানা যায়, বাবা বুলু মণ্ডল পেশায় এক কৃষক এবং ফুলজান বানু গৃহিণী। মনিরার বাবা বুলু মণ্ডলের কোনো ছেলে সন্তান নেই। দু সন্তানই কন্যা। মনিরা ছিল বড়। তার ছোট বোন ইশরাত জাহান সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। ছেলে সন্তানের অভাব পূরণে ব্রতী নিয়ে মনিরা কৃর্তীত্বের সঙ্গে এইচএসসি পাশের পর ট্রেনিং শেষে গত বছরের ১২ অক্টোবর পুলিশ বিভাগে যোগদান করে। চাকরির বয়স মাত্র ৩ মাস। অনেক আশায় বুক বেধে বাবা-মার সংসারের হাল ধরেছিল মনিরা।

পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল আলম বলেন, ‘নিহত পুলিশ কনস্টেবল মামনি আকতার মনিরা (১৯) ট্রেনিং শেষে ৩ মাস আগে ঢাকায় রাজারবাগে পুলিশ লাইনে চাকরিতে যোগ দেন।

গত রোববার সকালে বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকা থেকে টঙ্গীতে যাওয়ার সময় ফকিরাপুল এলাকায় সড়ক দুর্ঘনায় তার মৃত্যু হয়।
জেআই