গাজীপুরে একটি ফ্যান তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন। নিহত ১০ জনের লাশ শনাক্ত করেছেন স্বজনরা।
নিহতরা হলেন- বাড়িয়া ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকার লাল মিয়ার ছেলে পারভেজ, ময়মনসিংহের রাঘবপুর এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে তারিকুল ইসলাম, দিনাজপুরের বারবটিকা এলাকার আবদুল হামিদের ছেলে মোহাম্মদ লিমন, গাজীপুর সদর উপজেলার কালনী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে ফয়সাল খান, শ্রীপুরের মার্তা গ্রামের নজরুল ইসলাম নজর ছেলে শামীম, একই এলাকার কামাল হোসেনের ছেলে রাশেদ, রংপুরের আরাগাছ এলাকার তাজুল ইসলামের ছেলে ফরিদুল ইসলাম, নরসিংদীর বেলাব থানার চর কাশিনগর এলাকার ছেলে সজল মিয়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানার মুনিয়ার ছেলে ইউসুফ মিয়া। নিহতদের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা আছে। আজ লাশ হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ দুই শ্রমিক শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। এঁরা হলেন কেশরিতা গ্রামের আনোয়ার হোসেন ও পাশের জামুনা এলাকার মো. হাসান।
ঘটনার পরপর গতকাল রাতেই গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ঘটনা তদন্তে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের লাশ দাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
গতকাল সন্ধ্যা ৫টা ৫২ মিনিটে গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়নের কেশরিতা এলাকার রোজা হাইটেক লাক্সারি ফ্যান তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টায় আগুন নির্বাপণ করেন।
গাজীপুর ফায়ার স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক মো. মামুনুর রশিদ বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শটসার্কিট অথবা ফ্যানের কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।
এমএম





