সিলেটে শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় প্রধান অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে সৌদি আরব থেকে ঢাকায় আনা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টায় পুলিশের তিন কর্মকর্তা কামরুল ইসলামকে নিয়ে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।

এর আগে সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জানান, দুপুরে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে করে কামরুল ইসলামকে দেশে ফেরত আনার কথা রয়েছে।

গত ৮ই জুলাই সিলেটে সামিউলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর পরই কামরুল ইসলাম সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার পর সেখানে ধরা পড়েন।

এরপর তাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বাংলাদেশ পুলিশের তিন সদস্যের দল সৌদি আরবে যায়।

সৌদি আরবের সঙ্গে বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় তাকে ইন্টারপোলের সহায়তায় দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সৌদি আরবের কর্তৃপক্ষ আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করে ইন্টারপোলের কাছে তাকে হস্তান্তর করে।

ঢাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে আনার পর কামরুল ইসলামকে সিলেটের আদালতে হাজির করে হত্যা মামলাটিতে গ্রেফতার দেখানো হবে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডেও নেয়া হতে পারে।

এদিকে শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় কামরুল ইসলামসহ তিনজনকে পলাতক দেখিয়ে মোট ১৩জনের বিরুদ্ধে সিলেটের আদালতে এখন বিচার চলছে।

গত ৮ই জুলাই সামিউলকে পিটিয়ে হত্যার পর অভিযুক্তরাই সেই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছিল। তখন এনিয়ে সারা দেশে মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পুলিশ সদর দফতরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের নির্দেশে এআইজি (এনসিবি) মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া আসামি কামরুলকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেন। তিনি কামরুলের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে এনসিবি রিয়াদকে জানান। এনসিবি রিয়াদ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তখন এনসিবি ঢাকা কামরুলের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানায়। ২১ জুলাই মো. কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে।

পুলিশ সদর দফতরের অনুরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বন্দী বিনিময়ের জন্য অনুরোধ করেন সৌদি কর্তৃপক্ষকে। এআইজি (এনসিবি) মো. মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া এ সংক্রান্ত সার্বিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

এআই