বার্ন রোগীকে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে ডাক্তারকে মারধরের ঘটনায় কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ডাক্তারদের কর্মবিরতি চলছে। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা চিকিৎসা সুবিধা না পেয়ে ফিরে যাবার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা- কর্মচারী এবং পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার (২০ জুন) বিকেলে কেরোসিনের চুলার আগুনে ঝলসে যাওয়া বশার ফকির (১৬) নামে এক কিশোরকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে।
এসময় জরুরি চিকিৎসা দিতে সৈথিল্য দেখানোর অভিযোগে ওই বার্ণ রোগীর বাবা জাকির ফকিরের হাতে ওই হাসপাতালের একমাত্র ডাক্তার কামরুজ্জামান লাঞ্ছিত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওই অগ্নিদগ্ধ কিশোরকে ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যায়।
এদিকে, লাঞ্ছিত করার ঘটনায় জাকির ফকিরকে আসামী করে ডা. কামরুজ্জামান সোমবার বিকেলে মহিপুর থানায় একটি মামলা করেছে। এ ঘটনার পর থেকে কার্যত: কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে কোন রোগী দেখা হয়না বলে একাধিক রোগীর অভিভাবকরা জানিয়েছেন।
জাকির ফকির জানান, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কোন চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের এক মাত্র চিকিৎসক ডাঃ কামরুজ্জামান তখন তার কোয়ার্টারে বসে প্রাইভেট রোগী দেখছিল। এ সময় ডাক্তারকে খবর দেয়া হলেও প্রায় আধা ঘন্টা পর হাসপাতালে আসেন। তখন আমার বাচ্ছার অবস্থা খুব খারাপে দিকে যাচ্ছে। কোন বাবাই ডাক্তারের এ আচরণ সহ্য করবেনা। যার কারণে আজ আমার ছেলের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য ওই ডাক্তার দায়ী।
এ ব্যাপারে ডা. কামরুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমি বার্ণরোগীকে দেখতে যাচ্ছিলাম। এসময় তাদের দৃষ্টিতে বিলম্ব মনে হয়েছে এমন অভিযোগে আমার ওপর হমালা হয়েছে।
কর্মবিরতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি আগামী শুক্রবার পর্যন্ত ছুটিতে রয়েছি। এরপরে বিষয়টি কি হয় দেখা যাবে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান ডাক্তারের কর্মবিরতি চলার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তবে কোন চিকিৎসা সেবা কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতালে নেই-এটি স্বীকার করে বলেন, ‘ডাক্তার ছাড়া জরুরি বিভাগ চলতে পারে না। ডা. কামরুজ্জামানের ওপর হামলার পর সেখানে আপাতত কোন ডাক্তার নেই।
মহিপুর থানার ওসি মাকসুদুর রহমান বলেন, ডা. কামরুজ্জামন একটি মামলা করেছেন। তদন্ত চলছে, এরপর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এমআইএস





