নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে স্বামী-শ্বশুরের দাবিকৃত অটোরিকশা দিতে না পারায় লাকি আক্তার (১৮) নামে এক নববধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নিহতের বাবার বাড়ির লোকজন।

এ ঘটনার পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।

রোববার (২৯ মে) ভোরে উপজেলার রানীপুরা (ইসলামপুর) এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিকেলে নিহত লাকির বাবা ইব্রাহীম মিয়া বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

রূপগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল ইসলাম জানান, সকালে শ্বশুরবাড়ি রানীপুরা (ইসলামপুর) এলাকায় লাকি আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।

নিহত লাকির বাবা ইব্রাহীম মিয়া জানান, তাদের বাড়ি উপজেলার তাড়াইল এলাকায়। দেড় মাস আগে রানীপুরা (ইসলামপুর) এলাকার আলম মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়ার সঙ্গে লাকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জামাতা নাঈম মিয়া ও শ্বশুর আলম মিয়া যৌতুক হিসেবে একটি অটোরিকশা দাবি করে আসছিলেন। তিনি গরীব বলে দাবিকৃত অটোরিকশা দিতে পারছিলেন না। তারপরও মেয়ের সুখের জন্য কিছুদিন সময় চেয়ে নিয়েছিলেন।

এদিকে, অটোরিকশা কিনে দিতে দেরি হওয়ায় লাকিকে বাবার বাড়িতে যেতে দিতো না স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। শনিবার রাতে ইব্রাহীম মিয়া মেয়েকে আনতে গেলে লাকির শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে গালিগালাজ করে মেয়েকে না দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন। দাবিকৃত অটোরিকশা কিনে না দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে রোববার ভোরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন লাকিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, নিহত নববধূ লাকি আক্তারের বাবা ইব্রাহীম মিয়া বাদী হয়ে স্বামী ও শ্বশুরকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ওএফ