রাজধানীর তেজগাঁও বেগুনবাড়ি এলাকায় ওয়াশিকুর রহমান নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনটি চাপাতিসহ দুই জনকে আটক করেছে পুলিশ।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন দক্ষিণ বেগুনবাড়ির দিপিকার গলিতে হত্যাকাণ্ডের পর তাদের আটক করা হয়।

সোমবার দুপুর ১টার দিকে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা কার্যালয়ে, ডিএমপি তেজগাঁও জোনের ডিসি তেজগাঁও জোনের ডিসি বিপ্লব কুমার শাহ সাংবাদিকদের বলেন, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নিহত ওয়াশিকুর রহমান বাবু বাসা থেকে তার কর্মস্থল মতিঝিল ফারইষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিতে যাচ্ছিল। বাসা থেকে দু'শ গজ দূরে দিপিকার গলিতে তিনজন দুর্বৃত্ত তাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যাবার সময় টহলরত পুলিশ তাদেরকে ধাওয়া দেয়। দুইজনকে ধরা সম্ভব হয়, অন্যজন পালিয়ে যায়।

বিপ্লব শাহ আরো বলেন, আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় ওয়াশিকুর রহমান তার ফেসবুকে ধর্মবিরোধী লেখালেখি করতো তা তাদের ভালো লাগত না, তাই তারা তাকে হত্যা করে।

আটককৃতরা হলো, চট্রগ্রাম হাটহাজারি মাদ্রাসার ছাত্র জিকরুল্লাহ (২৪) ও মিরপুর দারুস সালাম মাদ্রাসার ছাত্র আরিফুল ইসলাম (২৩)। আর যে পালিয়ে গেছে তার নাম আবু তাহের।

ডিসি বলেন, জিকরুল্লাহ এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানোর জন্য রোববার চট্রগ্রাম থেকে ঢাকায় এসে রাতে যাত্রাবাড়ি মসজিদে রাত্রি যাপন করে তারপর আজ ভোরে এসে হত্যাকাণ্ডটি ঘটায়।

আটককৃতরা কোনো ধর্মীয় উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে জড়িত কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, তা এখনো জানা যায়নি। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে এটা জানা যাবে।

আটকৃতরা অভিজিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কিনা তা আপনার জানতে পেরেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিপ্লব শাহ বলেন, এটা আমরা এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি। তবে তা আমরা খতিয়ে দেখবো।

প্রত্যক্ষদর্শী সুমন টাইমনিউজবিডিকে বলেন, ‘সকাল সাড়ে নয়টার দিকে আমরা হোটেলে নাস্তা করছিলাম। এমন সময় বিপ্লব ভাই (স্থানীয় শ্রমিক) আমাদের ডেকে বলে ধর-ধর পালিয়ে গেলো। তখন আমরা সেখানে গিয়ে দেখি একজনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে রয়েছে আর তিনজন দৌড় দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তাদেরকে তাড়া দিলে রাস্তার পুলিশও তাদেরকে তাড়া দেয়। তখন তারা কয়েকজন হিজড়ার সামনে পড়ে। হিজড়ারা তাদের দু'জনকে ধরতে পারে আর অন্যজন পালিয়ে যায়।’

নিহত ওয়াশিকুর রহমানকে চেনে কিনা জানতে চাইলে সুমন বলে, ‘আমরা এখানকার স্থানীয় ছেলে। তাকে আমরা এর আগে কখনো দেখিনি। তারপরেও তার মুখ রক্ত দিয়ে মাখা চিলো তাই চিনতে পারিনি।'

তবে নিহত ওয়াসিকুর যে বাসায় থাকতো সে বাসার কেয়ারটেকার ঝর্ণা বলেছেন, 'একমাস আগে সে এই বাসা ভাড়া নেয়।’

নিহত ওয়াশিকুর রহমান নোয়াখালির টিপু সুলতানের ছেলে। সে তেজগাঁও দিপিকার মোড়ের হারুন ভূইয়ার ৫/৭ নং বাড়ির তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকতো।

উল্লেখ, একইভাবে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে রাত ৯টায় টিএসসির মোড়ে দুর্বৃত্তদের হাতে খুন হয় মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত রায়।

এআই/কেএইচ