দীঘিনালায় নিরাপত্তা বাহিনীদের সঙ্গে পাহাড়ি গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় জনপ্রতিনিধিসহ ইউপিডিএফের ৭ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।
রোববার রাতেই দীঘিনালা থানা পরিদর্শক ঈসরাফিল মজুমদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সরকারি কাজে বাধা এবং নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলার অভিযোগ এনে ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৭ শতাধিক আসামি করা হয়।
রাতেই ১১জনকে আটক করে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার তাদের আদালতে তুলে রিমান্ড আবেদন করলে চিফ জুডিশিয়েল ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড মঞ্জুর না করে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।
আটককৃতরা হল- শান্তি বিকাশ চাকমা, শ্যামলেন্দু চাকমা, চুকলু চাকমা, সুমন চাকমা, রিপন চাকমা, পুনরাজ চাকমা, রূপকুমার চাকমা, অনিল বিকাশ চাকমা, ভাগ্যধন চাকমা, সাধন বিকাশ চাকমা এবং লীলু চাকমা।
সংঘর্ষের ঘটনায় রোববার দীঘিনালা উপজেলায় সকাল সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ পালন করে ইউপিডিএফ সমর্থিত দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটি। তবে মাঠে ছিল না কোনো পিকেটার। উপজেলার সর্বত্র ছিল নিরাপত্তা বাহিনীর টহল এবং নিরাপত্তা চৌকি। সন্দেহভাজনদের তল্লাশিও করতে দেখা গেছে।
ইউপিডিএফ দীঘিনালা ইউনিটের সংগঠক কিশোর চাকমা জানান, দীঘিনালা ভূমি রক্ষা কমিটির শান্তিপূর্ণ পদযাত্রা কর্মসূচিতে সেনাবাহিনী-পুলিশ হামলা চালিয়েছে। এখন আবার সাধারণ মানুষকে আসামি করে গ্রাম ছাড়া করেছে। গণতান্ত্রিক দেশে অগণতান্ত্রিক প্রথা চালু করছে সরকার। যার ফলাফল ভালো হবে না বলেও জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, জুম্ম জনগণ তাদের নিজের গায়ের রক্ত দিয়ে হলেও পিতৃ ভিটা রক্ষা করবে।
দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাহাদাত হোসেন টিটু বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১জনকে আটক করা হয়েছে। সংঘর্ষের দিন বিক্ষোভকারীদের উসকানোর দায়ে একাধিক জনপ্রতিনিধিকে এবং ইউপিডিএফের দীঘিনালা উপজেলা ইউনিটের অধিকাংশ নেতাকে আসামি করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্তের কাজ চলছে।
উল্লেখ্য, দীঘিনালার বাবুছড়া থেকে ৫১ বিজিবির সদর দপ্তর অন্যত্র অপসারণ, মামলা প্রত্যাহার এবং ২১ পরিবারকে তাদের নিজ ভূমিতে পুনর্বাসন দাবিতে গত রোববার পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। দীঘিনালা সদর দপ্তর থেকে বাবুছড়ার বিজিবি সদর দপ্তর অভিমুখে এ কর্মসূচিতে বাধা দেয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলে আহত হয় অন্তত ১০ জন।
জেআই





