বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুরের বানিয়ারচর গীর্জা পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার সকাল ১০টায় তিনি বানিয়ারচর গীর্জা পরিদর্শনে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা তিনি ওই গীর্জায় অবস্থান করেন।

এসময় তিনি ২০০১ সালের ৩ জুন বানিয়ারচর গীর্জায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ১০ জনের সমাধিতে ফুল দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন। পরে তিনি নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করে তাদের খোঁজ খবর নেন।

এরপর গীর্জা পরিচালিত স্কুল ভবনে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। সেখানে তাকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। আয়োজন করা হয় নৃত্যানুষ্ঠানের।

সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় ড্যান মজীনা বলেন, ২০০১ সালের ৭ জুন দিনটি আমার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিন বছর এ দেশে বাস করার পর ওইদিন আমি স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাই। কিন্তু আমরা বাংলাদেশ ছাড়ার আগে একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল, খুবই ভয়ঙ্কর ঘটনা।

তিনি বলেন, এ চার্চের ভেতর ঠিক এই জায়গাটিতে একটি বিশাল বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল এবং ১০ ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। অনেকেই আহত হয়েছিলেন। অনেকের জীবন ধ্বংস হয়েছিল। যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের শ্রদ্ধা জানাতে আজকে আমরা এখানে এসেছি। যারা তাদের জীবন ত্যাগ করেছেন, সেই সমস্ত পরিবার যারা এখনো এখানে আছেন, তাদের জীবন আর কখনো আগের মতো হবে না।

তিনি আরও বলেন, এখানে আসাটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যারা বেঁচে আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলা, তাদের স্মরণ করা যারা প্রাণ হারিয়েছেন। আমি মনে করি এঘটনার মধ্যে একটি শিক্ষা আছে। ২০০১ সালের ৩ জুন যা ঘটেছিল তা ছিল একটি অস্বাভাবিক ঘটনা। যেটা বাংলাদেশের ঐতিহ্য নয়।

বাংলাদেশের সত্যিকারের রূপ এই ঘরের মধ্যে প্রতিফলিত হচ্ছে। এই ঘরের মধ্যে সব কমিউনিটি মানুষ আছে। সেটাই বাংলাদেশে প্রকৃত চিত্র। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, আধিবাসী সবাই একসঙ্গে বাস করছেন। সেটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য।

এ সময় ইউএসএআইডি’র মিশন ডিরেক্টর ইয়ানিনা, রাষ্ট্রদূতের স্ত্রী গ্রেসি মজীনা, চার্চের ফাদার মৃত্যুঞ্জয় দফাদার, মাইকেল বাড়ৈ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। পরে উপস্থিত খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের লোকদের সঙ্গে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ড্যান মজীনা।

ঢাকা, ৪ আগস্ট (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই