নরসিংদী থেকে জিহাদ (৩) নামের একটি শিশু অপহৃত হওয়ার দুই দিন পর ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানা এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেছে র্যাব।
বুধবার দুপুরে র্যাব- ১১ সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, জিহাদকে গতকাল মঙ্গলবার বিকালে উদ্ধার করা হয়েছে এবং দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাবের দাবি, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন অপহরণের ‘মূল হোতা’ মাহফুজুর রহমান ও তাঁর ভাই আল-আমিন। এছাড়া অপহরণে জড়িত পপি আক্তার সাথি নামের এক নারী পলাতক রয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে অবস্থিত র্যাব- ১১ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব- ১১ অধিনায়ক (সিও) লে কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান সাংবাদিকদের বলেন, নরসিংদী জেলার সদর থানার মাছিমপুর (সাহেব প্রতাপ) এলাকার বাসিন্দা আলমগীর ওরফে আলম দীর্ঘদিন ধরে জর্ডানে আছেন। শিশুপুত্র জিহাদকে নিয়ে আলমের স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকেন। জিহাদের বাবা বিদেশে থাকার সুযোগে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী মাহফুজুর রহমান, পপি আক্তার সাথি নামের এক নারীকে স্ত্রী সাজিয়ে চার মাস আগে জিহাদদের বাসার পাশেই বাসা ভাড়া নেন।
র্যাব জানায়, জিহাদের পরিবারের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন মাহফুজুর ও সাথি। তারা জিহাদকে অপহরণের পরিকল্পনা করে তাকে আদর-যত্ন করতেন। একপর্যায়ে জিহাদ মাহফুজুর ও সাথিকে বাবা-মা ডাকতে শুরু করে। বেড়ানোর কথা বলে মাহফুজুর ও সাথি গত রোববার কৌশলে জিহাদকে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরে জিহাদের পরিবারের কাছে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন মাহফুজুর। এ ঘটনায় জিহাদের পরিবার নরসিংদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে। পরে অপহরণের বিষয়ে জিহাদের পরিবার র্যাব- ১১ এর কার্যালয়ে এসে অভিযোগ দায়ের করে।
র্যাব জানায়, একদিন পর অর্থাৎ গত সোমবার মাহফুজুর তার বড় ভাই আল আমিন রানার গাজীপুরের বাসায় শিশুটিকে নিয়ে আশ্রয় নেন। গতকাল মঙ্গলবার অপহৃতের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে মাহফুজুরকে ২৫ হাজার টাকা পাঠায়। বিকাশ নম্বর ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে র্যাব সদস্যরা অপহরণকারীর অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকালে মাহফুজুর ও তাঁর বড় ভাই রানা অপহৃত জিহাদকে নিয়ে ঢাকার মিরপুর চিড়িয়াখানায় বেড়াতে নিয়ে যায়।
এ সময় র্যাব- ১১ এর সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আলেপ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করেন ও দুই ভাইকে গ্রেফতার করেন।
র্যাব জানায়, মাহফুজুর ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে সাথিকে স্ত্রী সাজিয়ে তাঁর সহযোগিতায় অপহরণের ঘটনাটি ঘটান। জিহাদকে অপহরণের পর সাথিকে বিদায় করে দেন তিনি। এরপর থেকে সাথি পলাতক রয়েছেন।
র্যাব আরও জানায়, অপহরণের ঘটনাটি পরিকল্পিত। জিহাদকে তার মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ অপহরণের ঘটনায় জিহাদের চাচা শামসুল হক বাদী হয়ে নরসিংদী থানায় মামলা দায়ের করবেন।
কেএইচ





