ভোলা-লক্ষীপুর রুটে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করে ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে চলছে যানবাহন পারাপার।
গত কয়েক দিনে উজান থেকে নেমে আসা জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৪/৫ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় ভোলা-লক্ষীপুর রুটের ফেরি চলাচলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ঈদে ঘরেফেরা মানুষসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীবাহী বাস ও পন্যবাহী শত শত ট্রাক। সময় মতো ফেরি চলাচল করতে না পারায় দুই পাড়ে র্দীঘ যানজটে মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌছেছে।
স্থানীয় সূত্র গুলো জানিয়েছে, দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সাথে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সহজ যোগাযোগের এক মাত্র রুট হচ্ছে ভোলা-লক্ষীপুর ফেরি সার্ভিস। তাই প্রতি দিন শত শত যানবাহন এরুট দিয়ে পারা পার করে।
ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ফেরীঘাটসহ আশ পাশের এলাকা গত কয়েক দিন ধরে প্রবল বর্ষণ আর অতিজোয়ারের পানিতে ভোর ৪ টা থেকে ৪ ঘন্টা এবং দুপুর ৩ টা থেকে ৪ ঘন্টা ডুবে যায়। এতে করে ফেরীর গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়ক নিচু হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণ শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ঘাটের এ সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইলিশা মেঘনা নদীতে ভাটার মুহুর্তে ঘাটের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও জোয়ারের সময়ে ফেরিঘাটের চিত্র পাল্টে যায়। ঘাটের সংযোগ সড়ক নিচু হওয়ায় পানিতে ফেরীর গ্যাংওয়ে ও সংযোগ সড়ক তলিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে ওই রুটে যাতায়াত ব্যবস্থার চরম অবনতি ঘটে।
কয়েক বছর যাবত ইলিশা ফেরীঘাট সংলগ্ন রাস্তাটি নিচু ও সংস্কার না থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ওই রাস্তাসহ ফেরীর গ্যাংওয়ে ডুবে থাকে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় ওই রুটে চলাচলকারী যাত্রীবাহী বাস, ট্রাক ও বিভিন্ন যানবাহনসহ ঈদে ঘরমুখ মানুষের।
এক ট্রাক ড্রাইভার জানান, তিনি বরিশাল থেকে চার দিন আগে এই ঘাটে আসেন। তিনি চট্টগ্রাম যাবেন। কিন্তু জোয়ারের কারনে গ্যাংওয়ে ডুবে থাকায় যথা সময়ে ফেরী নামতেও পারে না উঠতেও পারেনা। যার কারনে ফেরিঘাটে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। অপর এক বাস ড্রাইভার সোবাহান জানান, বর্তমান যে পরিস্থিতি তাতে ৪ টি ফেরি প্রয়োজন।
কারণ ২টি ফেরি থাকলেও গ্যাংওয়ে ডুবে যাওয়ায় সময় মতো চলাচল করতে পারেনা। তার উপর ঈদের দিন যতো ঘনিয়ে আসছে যানবাহনের চাপ আরো বাড়ছে। তাছাড়া যানবাহন ফেরিতে উঠতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা
বিআইডব্লিউটিএ’র ফেরি ঘাটের লস্কর আবুল হোসেন টাইমনিউজবিডিকে জানান, তারা একাধিক বার উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানিয়েছেন। রাস্তা মেরামতের জন্য টেন্ডার দেয়া হয়েছে। ঠিকাদারের ব্যর্থতা এবং অনিয়মের কারনে রাস্তার এ অবস্থা।
বিআইডব্লিউটিসি’র ফেরির টার্মিনাল সুপারভাইজার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, বিআইডব্লিউটিএ কে বার বার ঘাট মেরামত করার জন্য বলা হয়েছে।
এমএ





