যশোর সরকারি মহিলা কলেজ অনার্সের ছাত্রী শারমিন আক্তার ও স্থানীয় একটি স্কুলের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী শাহানাজ আক্তার এরা দুই বোন। আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই দুই বোনকে বিরক্ত করে আসছিল তাদের গ্রামের প্রভাবশালী মাহাবুব মেম্বরের ছেলে আজমসহ আরো কয়েকজন। বিষয়টি গ্রামের কয়েক জনকে জানান শারমিনের বাবা শাহানুর বিশ্বাস। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রভাবশালী ওই পরিবারের সদস্যরা।
এরপর তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে গত ১৬ অক্টোবর সকালে শাহানুরকে বেধড়ক মারপিট করে তারা। লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ভেঙে ফেলা হয় দুই পা। এখানেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে গুরুতর জখম করা হয় শরীরের বিভিন্ন অংশ। মৃত ভেবে ফেলে যাওয়া হলে সেখান থেকে শাহানুরকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়।
একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে এলে চিকিৎসকরা শাহানুরের দুই পা কেটে ফেলেন। চিরতরে পঙ্গু শাহানুর এখন হাসপাতালের বিছানায় চোখের পানি ফেলছেন। বর্তমানে তিনি পঙ্গু হাসপাতালের বি ওয়ার্ডের ৬১ নং বেডে চিকিৎসাধীন। কিন্তু ঘটনা এখানেই শেষ নয়। এরপরও থেমে নেই প্রভাব শালী ওই পরিবারের সদস্যরা। ভুক্তভোগীরা যেন মামলা করতে না পারে এ কারণে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছে শাহানুরের পরিবারের সদস্যদের।
অসহায় এই পরিবারের সদস্যরা এখন আত্মীয় স্বজনদের বাসায় বসবাস করছেন। হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ১০ নং কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের নলভাঙ্গা গ্রামে ঘটলেও প্রভাব শালী এই পরিবারকে কিছুই করতে পারেনি স্থানীয় থানা পুলিশ। সরকারি দলের নেতা হওয়ার কারণে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অথচ দুই পা হারিয়েও ভুক্ত ভোগী এই পরিবারের সদস্যরাই উল্টো পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। প্রত্যান্ত এলাকার এই ঘটনাটি জনসম্মুখে না আসার কারণে বিচারহীনতায় ভুগছে একটি অসহায় পরিবার।
জানতে চাইলে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে প্রকৃত ঘটনা জানার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরিবারের নিরাপত্তায় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে পুলিশ। তবে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল হকও জানান, দুইপক্ষের মারামারি হয়েছিল বলে আমার কাছে তথ্য রয়েছে। তবে থানায় এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ না করায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আপনার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ এ্যাকশানে যাবে।
জেড





