ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা ও রংপুরে আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হেনা বেগম (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এবং জিসান (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহাবুব রহমান (২৪) নামে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়। 

মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) ভোরে ওই হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মৃত মাহাবুব রহমান ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিনাজপুরের বিরল থেকে রমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এ নিয়ে রমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩ জনে। এর আগে গাইবান্ধার এক শিশু ও লালমনিরহাটের এক ব্যবসায়ী মারা যায়।

রমেক হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম শাহাদুজ্জামান এ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত ১৮ আগস্ট (রোববার) দিনাজপুর থেকে রংপুর মেডিকেলে এই রোগীকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি দেখলে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। টানা সাত দিন আইসিইউতে থাকার পর অবস্থার উন্নতি দেখলে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হয়। সাধারণ ওয়ার্ডে রাখার একদিন পর এই রোগীর মৃত্যু হয়।

এদিকে রমেক হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ভর্তি আছেন ২৭ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হন ৭ জন। চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ১৪ জন। এছাড়া ১৯ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যা ৫৮০ জন। চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন ৫৫৩ জন। 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হেনা বেগম (৪৫) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। 

গতকাল সোমবার বিকালে ঢামেকে চিকিৎসাধীন থেকে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালে এ পর্যন্ত ৩৪ জনের মৃত্যু হলো। 

হেনা রাজধানীর শ্যামপুর থানার পালপাড়া এলাকায় ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী। 

মৃত হেনার ভাই মো. সুমন জানান, হেনা তিন দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে সোমবার সকালে বোনকে ঢামেকে স্থানান্তর করা হয়। 

এরপর তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থেকে আমার বোন মারা যান। 

ঢামেকে এ পর্যন্ত ৩৪ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জুনে একজন, বাকি ৩৩ জন জুলাই ও আগস্টে।

ডেঙ্গুজ্বর কেড়ে নিল নবম শ্রেণির ছাত্রের প্রাণ। মঙ্গলবার সকাল ৭টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

মারা যাওয়া স্কুলছাত্রের নাম জিসান (১৫)। সে গাজীপুর সদর উপজেলার সামন্তপুর গ্রামের মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে। সে ছোট দেওরা অগ্রণী স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ত।

জিসানের ভগ্নিপতি জাকির হোসেন জানান, এক সপ্তাহ আগে থেকে জ্বরে ভুগছিল জিসান। তাকে প্রথমে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাত ১১টায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন মঙ্গলবার সকাল ৭টায় তার মৃত্যু হয়।

ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্বজনরা লাশ বাড়িতে নিয়ে গেছে।

এসএম