পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে শুক্রবার থেকে বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলীর, আসাদগেট, কলেজগেটের বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
তবে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রথম দিনে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট মেলেনি। বিশেষ করে ২৩ ও ২৪ তারিখের টিকিট মিলছে না। যারা লাইনে প্রথমে দাড়িয়েছিলেন তাদের কেউ কেউ টিকিট পেয়েছেন। তবে প্রথম দিনেই ৬০ টিকিট বিক্রি শেষ হয়ে গেছে বলে বাস কাউন্টার থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাত থেকে কাউন্টারে টিকিটের জন্য দাঁড়িয়ে ছিল টিকিট প্রত্যাশীরা।অনেকে ভোরে এসেছেন টিকিট কিনতে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লাইন বেশ বড় হচ্ছে। কল্যাণপুরে উত্তরাঞ্চলগামী শ্যামলী, ন্যাশনাল, দেশ, হানিফ, এসআর, আল হামরা পরিবহনের বাসের কাউন্টারগুলোতে ভিড় ছিলো বেশী।
যারা টিকিট পেয়েছেন তাদের কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, ভাড়া বেশী আদায় করা হচ্ছে। আর চাইলেও ২৩ বা ২৪ সেপ্টেম্বরের টিকিট দেয়া হচ্ছে না।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. খন্দকার এনায়েতুল্লাহ জানিয়েছেন, সকাল থেকে উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্ধশতাধিক রুটে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী, কল্যাণপুর ও শ্যামলীর বিভিন্ন কাউন্টার থেকে পরিবহন সার্ভিসগুলো এ টিকিট বিক্রি করছে। তবে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) বাসের টিকিট বিক্রি শুরু করবে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে। এর একদিন আগে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে পাওয়া যাবে ট্রেনের টিকিট। কোনো পরিবহন সার্ভিস নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া রাখলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সূত্র জানায়, ঈদের অগ্রিম টিকিটের বাস মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। সকাল ৮ থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত টিকিট বিক্রি চলবে।
এদিকে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদে বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করবে বিআরটিসি। বিআরটিসির বিশেষ সার্ভিস চলবে ঈদের আগের ৩ দিন ও পরের ৫ দিন।
এছাড়া ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে আগামী ১৫ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর। ১৫ সেপ্টেম্বর বিক্রি হবে ১৯ সেপ্টেম্বরের টিকিট, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০ সেপ্টেম্বরের, ১৭ সেপ্টেম্বর ২১ সেপ্টেম্বরের, ১৮ সেপ্টেম্বর ২২ সেপ্টেম্বরের ও ১৯ সেপ্টেম্বর বিক্রি হবে ২৩ সেপ্টেম্বরের টিকিট। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে টিকিট বিক্রি করা হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে।
ঈদের পর ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। সেদিন বিক্রি হবে ২৭ সেপ্টেম্বরের ফিরতি ট্রেনের টিকিট। প্রতিবারের মতো এবারও একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট কিনতে পারবেন।
ঈদের আগে ৫ দিন ও ঈদের পরের ৭ দিন ‘ঈদ স্পেশাল ট্রেন সার্ভিসের’ মাধ্যমে বাড়তি সেবা দেয়া হবে। মোট ৫ জোড়া স্পেশাল ট্রেন চলবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-চাঁদপুর রুটে ২ জোড়া চলবে। ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ, ঢাকা-পার্বতীপুর, ঢাকা-খুলনা রুটে ১ জোড়া করে ঈদ স্পেশাল ট্রেন চলবে।
জেআই





