আই.ই.টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষী খেলার মাঠে অপরিকল্পিত ইমারত নির্মাণ করে মাঠটি ধ্বংসের পায়তারার বিরুদ্ধে হাজীগঞ্জ, তল্লা, পাঠানটুলী, পানিরকল, এমসার্কার্স, খানপুরসহ আশপাশের এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গসহ যুব সমাজের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ বিকেলে আই,ই,টি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আবু হাসান টিপুর সভাপতিত্বে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভাপতির বক্তব্যে আবু হাসান টিপু বলেন, মাঠের উত্তর কোনের সয়েলটেষ্ট রিপোর্ট অনুযায়ী সেখানে পাইলিং করে ইমারত নির্মাণ করা লাগে। কিন্তু পাইলিং করার খরচ লুটপাটের উদ্দেশ্যে কন্ট্রাক্টর ও কিছু অসাধু শিক্ষক সম্মিলিতভাবে মাঠের দক্ষিণ কোনে ইমারত নির্মাণ করে মাঠ ধ্বংস করার জন্য উঠে পরে লেগেছে।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়টিতে একটি বিশাল কার্যত অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত টিচার্স কোয়াটার্স রয়েছে। সেখানে ইচ্ছে করলে এ ধরনের ১০টি বিল্ডিং নির্মাণ করা সম্ভব, কিন্তু ঐসব কোয়ার্টারে কতিপয় স্কুল শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য পরিচালিত হওয়ার কারণে তারা সেই স্থানে ইমারত নির্মাণের বিরোধিতা করছে বলে অনেকের কাছেই শোনা যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের উত্তর পশ্চিম কোন ঘেঁষে বাউন্ডারি দেয়ালের বাইরে নলখালী খালের প্রায় অর্ধশত বিঘা খাস জমি রয়েছে, ঐ সম্পত্তি দখল করেও বিদ্যালয় সম্প্রসারণের কাজ এগিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু স্কুল কতৃপক্ষ অদৃশ্য সুতার টানে যৎসামান্য পাইলিং করার খরচ লুটপাটের উদ্দেশ্যে একেবারে খেলার মাঠের সম্মুখভাগে বেশ কিছু মেহগনি গাছকে হত্যা করে ইমারত নির্মাণ করে মাঠ ধ্বংসের কাজে লিপ্ত হয়েছেন।

সভায় অপরাপর বক্তারা বলেন, নারায়ণগঞ্জের একমাত্র সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টির এই শতবর্ষী খেলার মাঠটি কোন ভাবেই ধ্বংস করতে দেয়া হবেনা। অপরিকল্পিত ইমারত নির্মাণের সাথে জড়িতদের খেলার মাঠ ধ্বংসের সকল অপতৎপরতা পরিহার করার জন্য সভায় আহবান করা হয়।

সভার এক প্রস্তাবে রাত ৮টার পর পরবর্তী চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ওয়াহিদুর রহমান জুয়েল, সালাউদ্দিন উজ্জল, নূরনবী চৌধুরী স্বপন, আবুল কালাম আজাদ, শাহীন হায়দার, কাউসার আহমেদ সুমন, হাবিবুর রহমান রনি, সাগর আহমেদ প্রমুখ।

এমআইএস