একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের হফলনামা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব ওয়েবসাইটের (www.ecs.gov.bd) হলফনামা অংশে গিয়ে যেকোনো প্রার্থী বিস্তারিত তথ্য জানতে পারবেন। এর ফলে যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী সম্পর্কে হলফনামায় চোখ বুলালেই জানতে পারবেন ভোটাররা।

এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই ভোটের প্রচারে নেমেছেন। সোমবার প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। ২৮ ডিসেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত আচরণবিধি মেনেই সবধরনের প্রচারণা চালাতে পারবেন তারা। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৩০ ডিসেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।

২৮ নভেম্বর মনোণযনপত্র জমার শেষ দিনে ৩০ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। বাছাই ও প্রত্যাহার শেষে এক হাজারেরও বেশি প্রার্থী ঝরে পড়ে। প্রত্যাহার শেষে প্রায় দুই হাজারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র আরো জানায়, এবার ভোটের মাঠে কোথাও একক প্রার্থী নেই। প্রতি আসনে গড়ে ৬-৭ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকতে পারে। নির্বাচন কমিশন প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের একীভূত তথ্য সন্ধ্যা ৮টা পর্যন্ত দিতে পারেনি।

নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানান, প্রত্যাহারের শেষ দিন রোববার দলীয় চূড়ান্ত মনোনয়ন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য একীভূত করা সম্ভব হয়নি। সোমবার ৩০০ আসনে প্রতীক বরাদ্দের পর দলভিত্তিক ও স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতীক সম্বলিত তথ্যও একীভূত করতে বিলম্ব হতে পারে। কয়েকটি জেলার তথ্য আসতে বিলম্ব হচ্ছে বলে জানান কর্মকর্তারা।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনের মুখে দশম সংসদ নির্বাচনে মাত্র ৫৪৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিল। তাতে অংশ নেয় মাত্র ১২টি রাজনৈতিক দল। ১৫৩ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন একক প্রার্থীরা।

তবে নবম সংসদ নির্বাচনে প্রধান দলগুলো ভোটে অংশ নেওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিল ১৫৬৭ জন। এবারও আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ নিবন্ধিত দলগুলোর অংশগ্রহণ থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সংখ্যা নবম সংসদ নির্বাচনকেও ছাড়াতে পারে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনে এক হাজার আটশ’ জনের কাছাকাছি প্রার্থী হতে পারে। এরমধ্যে সিংহভাগই দলীয় প্রার্থী। দশম নির্বাচনের তিনগুণের বেশি ও নবম সংসদ নির্বাচনের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী হতে পারে।

প্রাথমিক তথ্য (অসম্পূর্ণ) অনুযায়ী, ৩০৬৫ টিরও বেশি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল; বাছাইয়ে বাতিল প্রায় সাড়ে ৫শ’; প্রত্যাহার প্রায় সাড়ে চারশ এবং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ১৮০০ এর মতো। তবে কয়েকটি জেলার তথ্য একীভূত করা হয় নি।

ইসির সহকারি সচিব রওশন বেগম জানান, একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এবার ৪০ হাজার ১৮৩টি কেন্দ্রে, ভোটকক্ষের সংখ্যা ২ লাখ ৬ হাজার ৪৭৭টি। তবে ইভিএমের কেন্দ্রগুলোতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়বে।

দশম সংসদ নির্বাচনে নয় কোটি ১৯ লাখ ভোটারের বিপরীতে ভোটকেন্দ্র ছিল ৩৭ হাজার ৭০৭টি। ৩০০ আসনে ভোটকক্ষ ছিল এক লাখ ৮৯ হাজার ৭৮টি।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ১৭ হাজার ৪৬২টি ভোট কক্ষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৪০টি। এর মধ্যে পুরুষ ভোট কক্ষের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৮৫৯টি এবং নারী ভোট কক্ষ ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮১টি।

এখন পর্যন্ত মোট ভোটার ১০ কোটি ৪২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩ জন। এতে নারী ভোটার ৫ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার ৩১১ জন এবং পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ২৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৬২।