রাজধানীর টিকাটুলীতে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতা ময়নুল হক মঞ্জুর চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নির্যাতন থেকে রক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তারা এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
আজ শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ দাবি তুলে ধরেন তারা। এতে ওই দুই মার্কেটের শতাধিক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, রাজধানী ও নিউ রাজধানী সুপার মার্কেটের দেড় সহস্রাধিক দোকানের মালিক-ব্যবসায়ী ময়নুল ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার। তারা এ থেকে রেহাই চান। অন্যথায়, দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
লিখিত বক্তব্যে মার্কেটের ব্যবসায়ী মো. সাখাওয়াত হোসেন দাবি করেন, চার বছর ধরে মার্কেটের কমিটি দখল করে নানা কৌশলে চাঁদাবাজি করে আসছেন ময়নুল। কেউ চাঁদা না দিলে তাকে ধরে নিয়ে মারধর করা হয় এবং তার দোকানে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়।
এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও র্যাবের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ময়নুল হক মঞ্জু প্রথমে এসি ব্লয়ারের নামে প্রতি দোকান থেকে ১০ হাজার টাকা হিসেবে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন। এরপর মার্কেটের পাকা রশিদে সার্ভিসিং চার্জ হিসেবে বিদ্যুৎ বিল, দারোয়ান বিল ও জেনারেটর বিলের নামে প্রতি মাসে অভিনব পন্থায় লাখ লাখ টাকা আদায় করছেন। তিনি বিদ্যুৎ বিল প্রতি ইউনিট ৯ টাকা হলেও তিনি ১৩ টাকা করে আদায় করছেন। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নাম ৫৬ লাখ টাকা, হোল্ডিং ট্যাক্সের ১৪ লাখ টাকা, পানির বিল ৩ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে মাত্র ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন।
আর রাজধানী মার্কেটের ৮০০ এনালগ মিটার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাত করেছেন। আর নিরাপত্তা প্রহরী, অফিস স্টাফ, ঝাড়–দার ও মসজিদের হুজুরদের বেতনের ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন।
আবার প্রতিমাসে জেনারেটরের নামে ৩ লাখ ১২ হাজার টাকা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করছেন। অথচ প্রতিমাসে সেখানে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, মার্কেটের সামনের ফুটপাতে দোকান ও জেনারেটর বিক্রি করে সেখানে দোকান বানিয়ে লাখ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করছেন। মার্কেটের ব্যবসায়ীরা দোকান বিক্রি বা নতুনে ভাড়া নিলে তিনি চাঁদা আদায় করছেন। আর রমজান মাসে কর্মচারীদের বেতন, পোষাকসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রতি দোকান থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জুর এসব চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় অনেক ব্যবসায়ীকে ধরে তার কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাধারণ ব্যবসায়ীরা উপায়ন্ত না পেয়ে র্যাব কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে র্যাব তার ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। পরে র্যাবের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। পরে র্যাব মার্কেটে গোয়েন্দা নজরদারি চালায়। এক পর্যায়ে গত ৮ জুলাই চাঁদাবাজির সময় ছয়জনকে আটক করে।
এরপর মঞ্জুর কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকসহ ১১ জনকে এক লাখ ৬০ হাজার ৬৯৫ টাকাসহ আটক করে। তাদের মধ্যে ১০ জনকে র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতে হাজির করা হলে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করেন। আর এই ঘটনাটি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকাসহ সংবাদ মাধ্যমে প্রচার হলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জু ও তার বাহিনী ব্যবসায়ীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হন।
তারা অনেক ব্যবসায়ীদের দোকান বন্ধসহ তাদের হত্যার হুমকি প্রদান করেন। শুধু তাই নয়, ব্যবসায়ীদের রাজাকার, রাজাকারের সন্তান ও পুলিশের সোর্স আখ্যা দিয়ে ব্যবসায়ীদের নামে থানায় জিডি করেছেন। তার নির্যাতন ও চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে থানা পুলিশ গ্রহণ করেনি।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত ব্যবসায়ীরা বলেন, কাউন্সিলরের এসব নির্যাতন ও চাঁদাবাজির সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশের পর ময়নুল হক ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে ওয়ারী থানা পুলিশ আটজন ব্যবসায়ীর জিডি গ্রহণ করেছেন।
নির্যাতিত ব্যবসায়ীরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর ময়নুল হক মঞ্জু ও তার বাহিনীর চাঁদাবাজি, নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের আইজি ও র্যাবের ডিজিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এএইচ





