রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শেষে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানের পর ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান!
‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানের বহিষ্কার দাবি করেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী।
আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান ও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট’ সম্পর্কে দলীয় বক্তব্য উপস্থাপন করতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম বলেন, টানা ৯ মাস লড়ে দেশ স্বাধীন করেছি ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান শোনার জন্য নয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি এই স্লোগান দিয়ে ৩০ লক্ষ শহীদদের আত্মত্যাগকে অসম্মান করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়েছেন। এটি চরম ঔদ্ধত্য ও রাষ্ট্রদ্রোহিতা। এই মুহূর্তে তার বহিষ্কার দাবি করছি।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে রাবি ভিসি ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দেন। একজন স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়ে অন্য দেশের স্লোগান কীভাবে দেন প্রশ্ন তুলে ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি তুলেছেন অনেকেই।
অনেকে বলছেন, এ স্লোগান এমনিতেই দেয়ার যৌক্তিকতা নেই, তার ওপর আবার অনুষ্ঠানে বিজ্ঞ সব ব্যক্তিত্বের মাঝে তিনি এটা করলেন।
শিক্ষকদের কেউ কেউ বলছেন, এমন কাণ্ড করে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে খাটো করে দেখালেন রাবি ভিসি। এটি একটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জীব ভাট্টি, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপাচার্য অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান। উপাচার্য তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলার পর ‘জয় হিন্দ’ বলেন।
রোববার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান দিয়ে রাবি ভিসি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান রাষ্ট্রদ্রোহিতে পরিণত হয়েছেন। তিনি তার পদের চরম অবমাননা ঘটিয়েছেন এবং ওই পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন।
অবিলেম্ব তাকে জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানাই। সেই সঙ্গে আইনের আওতায় এনে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য তার যথাযথ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এএস





