আজ অনুষ্ঠিত হলো জেলা পরিষদ নির্বাচন। কিন্তু ভোটের অধিকার পায়নি নরসিংদী সদর, পলাশ,শিবপুর,মনোহরদী-বেলাব ও রায়পুরা উপজেলা পরিষদের ৮ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সহ দেশের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্যরা।

কাজ নেই, সম্মানিভাতা নেই, বসার নির্দিষ্টস্থান নেই, ওয়ার্ড অনুযায়ী উন্নয়ন কাজ ও মূল্যায়ন নেই, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই, জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটাধিকার নেই, কোন নিয়ম-নীতিমালা নেই, ক্ষমতা বা পদাধিকার নেই,ডাক-ঢোল পিটিয়ে কি এত প্রয়োজন ছিল উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য নির্বাচনের? এমনই অভিযোগ রায়পুরা উপজেলার চতুর্র্থ উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের।

জানাযায়, বর্তমান সরকার ৪র্থ উপজেলা পরিষদের জন্য প্রথমবার উপজেলা পরিষদ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচন প্রথা চালু করেন। ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদের মধ্য থেকে মহিলা সদস্যদের ভোটে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনে ১৫ জুন ২০১৫ ইং তারিখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দ সহ প্রার্থীকে জামানত বাবদ ৫ হাজার টাকা, টিন সার্টিফিকেট, ব্যবসায়ীদের মত পিন নম্বার, নোটারী করন সহ প্রয়োজনীয় অনেক তথ্য চাওয়া হয়।

এসব তথ্য যোগান দিতে হিমশিম খেয়েছেন প্রার্থীরা। নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারনী করা হয় ২০ হাজার টাকা। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী প্রত্যেক প্রার্থী অনেক আশা নিয়ে নির্বাচনী খরচ করেন। প্রতিজন প্রার্থী নির্বাচনী খরচ ২০ হাজার টাকা নির্ধারন ছিল। খরচের নিয়ম নির্বাচন কমিশনের কিন্তু বৃহত্তর রায়পুরা উপজেলার জন্য সমান খরচ নির্ধারণ করা হলেও ২৪ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত উপজেলা রায়পুরায় অলিখিত খরচ প্রায় লাখ টাকা থেকে ৩/৪লাখ টাকা এমনই ধারনা নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের। কারন কমভোটের লড়াই হওয়ায় নিজেদের মান-সম্মান রক্ষায় এসব অতিরিক্ত টাকা খরচ করেছেন প্রার্থীরা এমন মন্তব্য পাওয়া যায়।

নরসিংদী সদর,পলাশ,শিবপুর,মনোহরদী-বেলাব ও রায়পুরাসহ ৭১টি ইউনিয়ন ও ৬ টি পৌরসভা নিয়ে সংরক্ষিত ২৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রায়পুরার ২৪ ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা মিলে ৩ ইউনিয়ন নিয়ে ১ টি আসন গঠিত হয়। ফলে ৮ টি আসনে নির্বাচনের মাধ্যমে ইউপি ও পৌরসভা সংরক্ষিত সদস্যদের ভোটে আট জন প্রার্থীকে নির্বাচিত করেন নির্বাচন কমিশন। তারা হলেন, ১ নং আসন ( পৌরসভা-রায়পুরা-চান্দেরকান্দি ও অলিপুরা ইউনিয়ন) জায়েদা পাঠান, ২ নং আসন (মির্জপুর-মহেষপুর ও মুছাপুর ইউনিয়ন) ইসরাত জামান বেবী, ৩ নং আসন (উত্তরবাখরনগর-মরজাল ও রাধানগর ইউনিয়ন) মফিজা খাতুন, ৪ নং আসন ( পলাশতলী- মির্জানগর ও আদিয়াবাদ ইউনিয়ন) মনোয়ারা বেগম, ৫ নং আসন (চরসুবুদ্ধি- হাইরমারা ও নিলক্ষ্যা ) বেবী আক্তার, ৬ নং আসন (আমিরগঞ্জ- চড়আড়ালিয়া ও ডৌকারচর ইউনিয়ন ) খালেদা পারভীন, ৭ নং আসন (চরমধূয়া-মির্জারচর-বাশগাড়ী) রাজিয়া খাতুন এবং ৮ নং আসন (চানপুর-পাড়াতলী ও শ্রীনগর ইউনিয়ন) শিউলী আক্তার। উল্লেখ্য, ১ নং আসনে ভোট সমান সমান হওয়ায় দ্বিতীয়বার নির্বাচনের মাধ্যমে ফলাফল নিষ্পত্তি করা হয়। এত কিছুর পরও ৫ হাজার টাকা জামানত নিয়ে কি উদ্দেশ্যে এ নির্বাচন করা হয়েছে তা জানতে চাই আমরা সংরক্ষিত সদস্যরা।

১ নং আসনের সদস্য জায়েদা পাঠান বলেন, অধিকার পাওয়ার জন্য জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাচন অফিসার সহ সেগুন বাগিচা বিভাগীয় কমিশনারের (যেখানে শপথ অনুষ্ঠিত) নিকট বিভিন্ন সময় যোগাযোগ করেছি। সবায় শুধু বলেন আমরা কিছুই জানিনা, আমরা আপনাদের কি কাজ বা সম্মানিরভাতার কোন কাগজ পাইনি। ফলে নির্বাচনের দেড় বছর চলে গেলেও কোন সুবিধা পায়নি।

৮ নং সদস্য শিউলী আক্তার বলেন, উপজেলা পরিষদের সদস্য হওয়ায় এক পদে থেকে আবার ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করা যাবেনা, ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে চাইলে আগে পদত্যাগ করতে হবে। ফলে আমার নির্বাচনী এলাকায় পুনরায় ইউপি সদস্য হওয়ার যোগ্যতা থাকা সত্তেও আমি নির্বাচনে অংশ নেইনি। আবার এখন শুনছি নতুন ইউপি সদস্য যারা হয়েছে তাদেরকে সদস্য বানাবে নির্বাচনের মাধ্যমে। ৪ র্থ উপজেলা পরিষদ ১ টি সেখানে কতবার সংরক্ষিত নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের অর্থ কি?

৪ নং আসনের মনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা আমাদের সকল অধিকার চাই, জেলা পরিষদের ভোটাধীকার চাই। উপজেলা পরিষদের পদে থাকায় ইউপি নির্বাচনে নির্বাচন করা যাবেনা তাই নির্বাচন অফিসারদের কথায় নির্বাচনে যাইনি। দেড় বছর হলো আমরা উপজেলা পরিষদের কোন সুবিধা পাইনি।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার ফখরুদ্দীন শিকদার বলেন, উপজেলা সংরক্ষিত সদস্যরা জেলা পরিষদের নির্বাচনে ভোটার হওয়ার কোন নির্দেশনা পাইনি এবং তাদেরকে ভোটার করা হয়নি। তবে জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেন। ইউপি সংরক্ষিত সদস্যদের ভোটার করা হয়েছে যেহেতু তারা ইউপি নির্বাচনে নির্বাচিত হয়নি তাদেরকে ভোটার করা হয়নি।

মহিলা ফোরামের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জায়েদা বেগম বলেন, উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত আসনের নির্বাচন নতুন ইউপি সদস্যদের মধ্য থেকে পুনরায় নির্বাচন হবে বলে শুনেছি। কি কাজে এ নির্বাচন তা জানিনা।

জেলা নির্বাচন অফিসার সফিকুল ইসলাম বলেন, নির্দেশনা না থাকায় জেলা পরিষদ নির্বাচনে উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্যদেরকে ভোটার করা হয়নি।

বশির/জারিফ