তিস্তার পানি শুক্রবার থেকে পুনরায় বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় নদীর তীরবর্তী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
তিস্তার অব্যাহত ভাঙ্গনে গত ১০ দিনে ৩৫ টি পরিবারের ঘর-বাড়ীসহ আবাদী জমি ও গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন হুমকির মুখে রয়েছে দু’টি সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়। প্রতিরোধে জরুরী পদক্ষেপ নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, শুক্রবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২.৪০ মিটার) ২৫ সেন্টেমিটিার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বররা জানান, বন্যার ফলে উপজেলার নেহালী, আলমবিদিতর, কোলকোন্দ, গঙ্গাচড়া, লহ্মিটারী, গজঘন্টা ও মর্নেয়া ইউনিয়নের ১৫টি গ্রাম আংশিক প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
প্লাবিত গ্রামগুলো হল নেহালী ইউনিয়নের চর নোহালী, চর বাগডহরা, আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান হাজীপাড়া, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চর চিলাখাল, খলাইর চর, চর বিনবিনা, চর মটুকপুর, গঙ্গাচড়া ইউনয়নের চর ধামুর, মাঝাপাড়া, গান্নারপাড়, লহ্মিটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহ, পশ্চিম ইচলী, পূর্ব ইচলী, কলাগাছি, মধ্য ইচলী, জয়রামওঝা, গজঘন্টা ইউনিয়নের চর ছালাপাক, চর রাজবল্লভ, মর্নেয়া ইউনিয়নের নিলারপাড়, চর মর্নেয়া, আলাল চর, রমাকান্ত, মহিষাশুর, কামদেব ও ভাঙ্গাগড়া গ্রাম।
পানিবন্দী পরিবারগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অন্যত্র ছুটছে। অকেকেই আতœীয়-স্বজনদের বাড়ীতে, কেউ কেউ ফ্লাড সেন্টার, উঁচু রাস্তা কিংবা বাঁধের ধারে আশ্রয় নিয়েছে।
নদীর ভাঙ্গনে আলমবিদিতর ইউনিয়নের পাইকান হাজীপাড়া ও কোলকোন্দ ইউনিয়নের চিলাখাল গ্রামে গত ১০ দিনে ৩৫টি পরিবারের বাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গ্রাম দু’টোতে অবস্থিত পাইকান জুম্মাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চিলাখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির মুখে রয়েছে।
বিদ্যালয় দুটি থেকে মাত্র চার-৫ ফুট দূরে নদী অবস্থান করছে। ভাঙ্গন রোধে জিও ব্যাগে মাটি ভরে ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এ বিষয়ে রংপুর পাউবোর (কিশোরগঞ্জ সাব ডিভিশন) তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল খালেক জানান, বøক তৈরী সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তা ব্যবহার করা যাবে না।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু ও উপজেলা নিবার্হী অফিসার তৌহিদুল ইসলাম নদী ভাঙ্গন ও প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী ভাঙ্গন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের নির্দেশ দেন। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেন, ভাঙ্গন রোধে আমরা সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এসএইচ





