সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার আট ব্ছর আজ মঙ্গলবার। মামলাটি বর্তমানে র‍্যাপিড এ্যাকশান ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) তদন্ত করছে। এরই মধ্যে আদালত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য ৭১ বার সময় দিয়েছে। কিন্তু এখনো এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হয়নি, তাই মামলার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি। পরের দিন ভোরে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় রুনির ভাই বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমানসহ মোট আটজনকে আটক করা হয়।

বাকিরা হলেন- রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুণ, পলাশ রুদ্র পাল, তানভীর, আবু সাঈদ ও বাড়ির নিরাপত্তারক্ষী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির। এর মধ্যে মধ্যে পলাশ রুদ্র পাল ও তানভীর রহমান জামিনে রয়েছেন।

এদিকে গতকাল সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিলো। কিন্তু র‍্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দেবব্রত বিশ্বাস তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য আগামী ২৩ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা র‍্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, তদন্তে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সাগরের মাসহ সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা চলছে। আশা করছি, শিগগিরিই দেশবাসী তদন্তের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখতে পারবেন।

এ বিষয়ে সাগরের মা সালেহা মনির বলেন, ‘শুধু সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করেছে সাগর-রুনির ব্চিার। মামলায় যাদের আসামি করা হচ্ছে তারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নয়। প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে নাটক সাজানো হয়েছে।’

সালেহা প্রশ্ন তুলেন, ‘তাহলে কার স্বার্থে, কাকে আড়াল করতে মামলার তদন্ত অগ্রসর হচ্ছে না?’ তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলে ও ছেলের বউ কোনো রাজনীতি করতো না। তারা দেশদ্রোহীও ছিলো না। রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কাজও করেনি। তবে তাদের হত্যার রহস্য কেন উদঘাটন করা হচ্ছে না?’ 

তদন্তের হালচাল

সাগর-রুনি হত্যা মামলাটির তদন্তভার প্রথমে পায় শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহুরুল ইসলাম। এর পরে ২০১২ সালের ডিবি উত্তরের পুলিশ পরিদর্শক মো. রবিউল আলম তদন্ত শুরু করেন। হাইকোর্ট বিভাগের এক রিট পিটিশনে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরে ১৯ এপ্রিল র‍্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. জাফর উল্লাহ মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেন। র‍্যাবের এ তদন্ত কর্মকর্তা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার কারণে ২০১৪ সালের ১২ মার্চ তদন্তভার পান র‍্যাব সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়ারেছ আলী মিয়া।

এরপরে র‍্যাব সদর দপ্তরের সহকারী পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন আহম্মেদ ২০১৫ সালে তদন্তভার গ্রহণ করেন। সর্বশেষ মামলাটি র‍্যাব সদর দপ্তরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শফিকুল ইসলাম তদন্ত করছেন।

তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আট বছরের মধ্যে বিভিন্ন তদন্ত সংস্থা মোট পাঁচবার তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেছেন। সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আলামত পরীক্ষা করে ঘটনাস্থল হতে দুইজন অজ্ঞাত পুরুষের ডিএনএ পাওয়া গেছে। তাদের সনাক্ত করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

এমআর