গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার হাসিলকান্দি গ্রামে চর জেগে উঠায় হাঁসি মুখে আগাম জাতের বোরো ধান চাষ করলেও সুখের হাসি হাঁসতে পারছেন না কৃষকরা।
এর কারণ হিসাবে জানা গেছে, সম্প্রতি কাল বৈশাখী ঝড়ে তাদের বোরো ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে আগাম জাতের বোরো ধানের ফলন ভাল হলেও কাল বৈশাখী ঝড় ও শীল বৃষ্টি আতঙ্কে ধান না পাঁকতেই ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা।
বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, এ চরের কৃষকরা কাল বৈশাখী ও শীলা বৃষ্টি আতঙ্কে আগাম বোরো ধান কাটছেন। পাকা, আধা পাকা এমনকি কাচা ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। যেন ধান ঘরে তুলতে পারলেই বেঁচে যাবেন তারা।
সাঘাটা উপজেলার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, বর্গা নিয়ে চরের ২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি। ধানের বাম্পার ফলন হলেও শনিবার কাল বৈশাখী ঝড়ে আমার সব শেষ হয়ে গেছে।
গত ৫ থেকে ৭ বছর আগে নদী আমার বাড়িঘর গ্রাস করেছে। যমুনা নদী আমাকে সর্বস্বান্ত করলেও এ বছর ওই স্থানে চর জেগে ওঠায় সেখানে আমি ২ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বোরো ধান চাষ করেছি। কিন্তু কাল বৈশাখী ঝড়ের ভয়ে আগাম ধান কাটতে হচ্ছে।
কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, গত বছর যেখানে নদী ছিল, সেখানে এ বছর চর জেগে উঠেছে। চলতি বোরো মৌসুমে ওই জায়গায় বোরো আবাদ করেছি। নদী তার সবকিছু কেড়ে নিলেও এ বছর তার সেই পৈতৃক সম্পত্তি জেগে উঠেছে। তিনি আরও জানান, ফলন ভাল হয়েছে। তবে শীলা বৃষ্টি আতঙ্কে ধান ঘরে তুলতে বাধ্য হচ্ছি।
সাঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মুবিনুজ্জামান চৌধুরী জানান, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১৪ হাজার ৮’শ ৮০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নদী বেষ্ঠিত এলাকায় ৭শ হেক্টর ও চরাঞ্চলে ৮০ হেক্টর। চরাঞ্চলের কৃষকরা অল্প পুঁজি খাটিয়ে চরের জমিতে নানা ফসল ফলিয়ে সুখের দিন কাটাচ্ছে। এ বছর চরাঞ্চলে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হওয়ায় আগামী বছর আবাদের পরিধি আরও বাড়বে।
এসএইচ





