কক্সবাজারের উখিয়ায় চাঞ্চল্যকর ইয়াবা পাচার সংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে স্বামীকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবী করে তার স্ত্রী রোজিনা।

কান্নাজড়িত কন্ঠে এ প্রতিবেদককে বলেন, দেড় মাস আগে তার স্বামীকে টাকা দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় এক ইয়াবা ব্যবসায়ী বাড়ী থেকে ঢেকে নেওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশ বালুখালীর জুমেরছড়ার জঙ্গল থেকে যে অজ্ঞাতনামা গলিত লাশটি উদ্ধার করেছে সে লাশটিই তার স্বামী ভূলু বলে নিশ্চিত করে স্বামীর হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে বিচার দাবী করেন রোজিনা।

পুলিশ বলছে, লাশের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

এ উপজেলার চোরাচালানের ঘাটি হিসেবে পরিচিত পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী শিয়াইল্যাপাড়া গ্রামের মৃত গুরা মিয়ার ছেলে আলমগীর ভূলু। তিনি ইয়াবা পাচারকারীর বাহন হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা পাচার করে আসছিল দীর্ঘদিন থেকে। ইয়াবা পাচারের পাশাপাশি নিজেই ইয়াবা আসক্ত হয়ে প্রায় ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে ২ সন্তানের জনক এই আলমগীর ভূলু (৩৫)।

তার স্ত্রী রোজিনা বেগম স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় ইয়াবা ব্যবসায়ী আকবর আহমদের সাথে ইয়াবা চালানের পাচার নিয়ে তার স্বামীর কিছু লেনদেন ছিল। রোজিনা আরো জানায়, গত দেড় মাস আগে রাতের বেলায় টাকা দেওয়ার কথা বলে তার স্বামীকে বাড়ী থেকে ঢেকে নিয়ে যাওয়ার পরে স্বামীর খোঁজ পাওয়া যায়নি। গতকাল উখিয়ার এক হোটেলে স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ করে রোজিনা অঝোর ধারায় কেঁদে কেঁদে বলেন, গত ২ জানুয়ারী বালুখালী জুমেরছড়া থেকে উখিয়া থানা পুলিশ যে অজ্ঞাতনামা লাশটি উদ্ধার করেছে, ওই লাশটি তার স্বামী বলে দাবী করে রোজিনা জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্ত্র সামগ্রী তার স্বামী ভূলুর পরিহিত বস্ত্র বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সময় রোজিনা ২ এতিম সন্তানকে জড়িয়ে ধরে বুক ফাটা আর্তনাত করে বলেন, ইতিপুর্বেও আকবর আহমদ তার বসতভিটাটি জবর দখল করার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে স্বামীকে ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে নেশাগ্রস্ত করে তুলেন। শেষ পর্যন্ত প্রতিপক্ষরা তার স্বামী ভূলুকে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে খুন করেছে বলে দাবী করে স্বামী হত্যার বিচার প্রার্থনা করেন।

এদিকে ভূলুর বয়োবৃদ্ধ মাতা নুর নাহার বেগম (৫৫) জানান, কাঠুরিয়া ছেলে/মেয়েদের কাছ থেকে জানতে পেরে জুমেরছড়া জঙ্গল থেকে তার ছেলের কাপড়, ছোপড়, ছবিসহ বিভিন্ন আলমতে প্রমাণিত হয়েছে পুলিশের উদ্ধার করা গলিত লাশটি তার ছেলে ভূলুর। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের জুমেরছড়া জঙ্গল থেকে একটি গলিত লাশ উদ্ধারের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, লাশটি পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আকবর আহমদের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে সে জানায়, আলমগীর ভুলু তার নিকটতম আত্মীয়। তার সাথে কোন বিরোধ নেই। তবে ভুলু একজন নেশাগ্রস্ত ভারসাম্যহীন যুবক। তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ একটি মহল পারিবারিক শত্র“তার জের ধরে তাদেরকে অহেতুক হয়রানি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এমএম