জলদস্যুদের ডাকাতি ও অপহরণের কবলে প্রতিনিয়ত নি:স্ব হয়ে পড়ছেন দেশের দক্ষিনাঞ্চল বরগুনার জেলার হাজারো মৎস ব্যবসায়ী। গভীর সাগরে মাছের ট্রলার পাঠিয়ে সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের কবল থেকে নিরাপদে মাছ নিয়ে জেলেরা ফিরতে পারবেন কীনা-সেই চিন্তার চেয়েও এখন বড় দুশ্চিন্তা যেন জলদস্যুদের তান্ডব।

প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের ডাকাতির কবলে পড়ে অনেক ট্রলার মালিকই হয়েছেন সর্বস্বান্ত। জীবন দিতে হয়েছে অনেক জেলেকে। এখন সাগরের উম্মত্ততার চেয়েও বড় সমস্যা যেন জলদস্যুদের উন্মত্ততা।

আমাদের পাথরঘাটা প্রতিনিধির পাঠানো রিপোর্টে বলা হয়েছে, আবহাওয়া জনিত কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সাগরের উত্তাল তরঙ্গ আগ্রাসী দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকায় সাগরে যেতে পারছেন না জেলেরা। এরই মধ্যে দীর্ঘ অপেক্ষার পর জীবন-জীবিকার তাগিদে জেলেরা মাছ ধরতে সাগরে রওয়ানা হতে শুরু করছেন।

কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে জেলেদের কাছে তথ্য এসেছে, জলদস্যুরাও প্রস্তুতি নিয়ে আছে সাগরে ট্রলার যাওয়া মাত্রই ডাকাতি ও অপহরণ শুরু করবে। সিদ্ধান্ত যেন একেবারেই পাকাপাকি।

শুক্রবার গভীর রাতের ঘটনায় বিষয়টি যেন আরও পরিস্কার হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার দিবাগত শুক্রবার রাত ৩.৪৫ মিনিটের দিকে লাল দিয়ার চরে নয়ন বাহিনীর আস্তানায় কোষ্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লেঃ এম. আরিফ হোসেনের নেতৃত্বে ২৪/২৫ সদস্যের ১টি দল অভিযান চালায়।

কোষ্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি বর্ষন করলে উভয়ের মধ্যে প্রায় ২শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। এক পর্যায় ডাকাতরা পিছু হটে এবং নয়ন বাহিনীর সহকরী দলনেতা মোঃ ইয়াছিন (২৪) ও দলের সদস্য সুমন (২৩) গুলিবিদ্ধ হয়। নয়ন বাহিনীর প্রধান মোঃ মনিরের বিশিষ্ট সহযোগী মোঃ কাওছার (৩০) আত্মসমর্পন করে।

অভিযান চলাকালীন কোষ্টগার্ডের কোন সদস্য আহত হয়েছেন কীনা সে ব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। আহত ২ ডাকাতকে কোষ্ট গার্ডের তত্ত্ববধানে পাথরঘাটা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযানস্থল থেকে ৩টি আগ্নেঅস্ত্র ৩৯১ রাউন্ড গোলাবারুত এবং ৩টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে কোষ্টগার্ড।

অন্যদিকে সাগরে জেলেদের উপর জলদস্যুদের তান্ডব অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকটি ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। এমনকি অপহরণের ঘটনাও ঘটেছে।

সম্প্রতি পাথরঘাটা নজরুল মিয়ার এফ.বি মনিরা ট্রলার ও ট্রলারের মাঝি ইউসুফসহ ৩ জনকে অপহরণ করে সুন্দরবন নিয়ে যায় জলদস্যুরা। বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক ও ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের কর্তৃপক্ষ খবরটি নিশ্চিত করেন।

ক্ষুব্ধ জেলেদের অভিযোগ, এ বছর জলদস্যুরা অতীতের চেয়েও বেপরোয়া আচরণ করছে। বিগত বছরগুলোতে সাগর থেকে কয়েকবার মাছ আহরণের পরই জেলেরা ডাকাতি কবলে পড়তো বা অপহরণের শিকার হতো। কিন্তু চলতি বছরের শুরতেই ডাকাতদের তান্ডবের শিকার হতে হচ্ছে জেলেদের।

পাথরঘাটা, এমই, ৪ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেবি