গত দুই দশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগে দেশের প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ের পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) মিলনায়তনে ‘জিও-এনজিও কোলাবরেশন ইন ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ কনটেক্সট’ শীর্ষক কর্মশালার মূল উপস্থাপনায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়। কমিউনিটি ক্লাইমেট চেঞ্জ প্রকল্প (সিসিসিপি)-এর আওতায় এ কর্মশালাটির আয়োজন করা হয়।

কর্মশালার মূল উপস্থাপনায় পিকেএসএফ এর উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (কার্যক্রম) মো. ফজলুল কাদের বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সৃষ্ট বন্যা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ দরকার।

গত দুই দশকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় দুই লাখ মানুষের মৃত্যু ও অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে ভবিষ্যতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

পরিস্থিতি মোকাবেলায় সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে উপযুক্ত কর্মপরিকল্পনা তৈরী ও বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বিপদাপন্ন দরিদ্র জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও অভিযোজন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ১৯৯৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মসূচির মাধ্যমে পিকেএসএফ প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।’

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শাহ্ আলম বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে বেশ কিছু সফল পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা তৈরীতে সরকার ও পিকেএসএফ একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।’

এ সময় আরো বক্তব্য দেন- পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল করিম, পিকেএসএফ চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ প্রমুখ।

এমএনজে