ভারতে সোয়াইন ফ্লুর প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিতে রয়েছে তিন দিকে ভারত বেষ্টিত পঞ্চগড় জেলা। ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন জেলা হিসেবে পঞ্চগড় সোয়াইন ফ্লু ঝুঁকিতে থাকলেও এর প্রতিরোধে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো তৎপরতা নেই।
ভারত ও নেপালের নাগরিকরা হরহামেশা জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে প্রবেশ করলেও তাদের পরীক্ষা করা হচ্ছে না। সীমান্তের জিরো পয়েন্টে মেডিকেল টিম বসানোর কথা থাকলেও তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে সোয়াইন ফ্লু ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় ভারতের নিকটবর্তী হওয়ায় পঞ্চগড় জেলার সাধারণ মানুষ সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন মালামাল নিয়ে ৪ থেকে ৫শ’ ভারতীয় ও নেপালী নাগরিক যাতায়াত করে। এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে চোরাইপথে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীরা ও চোরাকারবারিরা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। আবার বাংলাদেশী চোরাকারবারি ও গরু ব্যবসায়ীরাও ভারতে যাতায়াত করে থাকে। এরা সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বন্দরেও সোয়াইন ফ্লু শনাক্ত করতে ‘থার্মাল স্ক্যানার’ ও রেডইন্টার থার্মোমিটার নিয়ে ভারত থেকে আগত আমদানি-রফতানির পণ্যবাহী ট্রাকের চালক, সহযোগী ও খালসিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ৫ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম বসানো হয়েছে বলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়। কিন্তু মঙ্গলবার বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টে সরেজমিনে গিয়ে কোনো মেডিকেল টিম পাওয়া যায়নি।
স্থলবন্দরের সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট রেজাউল করিম রেজা ও নাহিরুল ইসলা মেডিকেল টিম বসেননি বলে জানিয়েছেন। ফলে সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস জেলার অভ্যন্তরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
এ ছাড়াও জেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে একটি করে কমিটি করার কথা থাকলেও পঞ্চগড়ে কোনো কমিটি করা হয়নি।
জানতে চাইলে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মো. আহাদ আলী বলেন, ‘সীমান্ত জেলা হিসেবে পঞ্চগড় সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। এতে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।’
সোয়াইন ফ্লু ভাইরাস শনাক্ত করা ও চিকিৎসা সরঞ্জামের স্বল্পতা রয়েছে। তবে বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এএইচ





