ধনাঢ্য ব্যবসায়ীর বাসায় স্ত্রী ও মেয়ে কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ১২/১৩ বছরের দুই শিশু গৃহকর্মী। মিরপুর-২ নং সেকশনের এভিনিউ-১ এর ১৯ নং বাড়ীর ৪র্থ তলায় টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী চঞ্চল মাহমুদের বাসায় ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছে রোজিনা ও মিশু নামের দুই গৃহকর্মী।

গতকাল ইফতারীর আগ মুহুর্তে শিশু দুইটিকে মাজার রোড সংলগ্ন কোণা বাড়ী বাসষ্টান্ডে কান্নাকাটি করতে দেখে পথচারীরা এগিয়ে আসে এবং তাদেরকে মিরপুর মডেল থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে সংবাদ কর্মীদের কাছে রোজিনা নামের মেয়েটি গত ৪ বছর ধরে তার ওপর অমানবীক নির্যাতনের বর্ণনা দেন এবং মিশু নামের মেয়েটি একই বর্ণনা দেন।

তাৎক্ষণিকভাবে ডিউটি অফিসার ও এস, আই, ইদ্রিসের নেতৃত্বে ঐ বাসায় অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীর স্ত্রী, মেয়ে, এবং ছেলে আকিবকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। মেয়ে দুইটি কাছে থেকে জানা যায় তাদের বাড়ী নোয়াখালী জেলার পাটারী ঘাট গ্রামে এবং রোজিনার বাবা আব্দুল কাদের একজন ক্ষুদে মৎসজীবি সংসারে অভাবের কারণে মেয়েকে একটু ভালো রাখার জন্য পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে গত ৪ বছর আগে রোজিনাকে চঞ্চল মাহমুদের বাসায় কাজে পাঠায়।

কিন্তু রোজিনা জানায় গত চার বছরে খাবার হিসাবে জুটেছে উচ্ছিষ্ট অংশ ও সীমাহীন নির্যাতন। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত চিহ্ন সহ মার-ধরের দাগ দেখিয়ে অঝোরধারা কান্নার স্বরে মাথার ফাটা চিহ্ন এবং হাত ফুলে যাওয়া বিবরণ দেয়। রোজিনা বলে প্রতিদিন বিনা কারণে জ্যোতি ও আকিব তার চুল টেনে চিরণী দিয়ে আঘাত লাথি থাপ্পরের মাধ্যমে কাজের নির্দেশ দিত।

তারা জানায় গৃহকর্তা বাসার বাহিরে গেলে তাদেরকে রান্না ঘরে তালা বদ্ধ করে রেখে যেত এবং রাতের বেলা রান্না ঘরে ঘুমাতে দিতো। মিশু নামের শিশুটির বুদ্ধিমতার কারণে গতকাল প্রচন্ড মার-ধরের পরে তারা পালিয়ে আসে। কিন্তু গ্রামের বাড়ী না চিনতে পারায়

এবং টাকা পয়সা না থাকায় বাসষ্ট্যান্ডে কান্না শুরু করে। বর্তমানে মিরপুর থানা পুলিশ শিশু দুইটি তেজগাঁও এ ভিকটিম সার্পোট সেন্টারের রেখেছে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়ার জন্য, অদৃশ্য কারণে রাত ১ টা দিকে পুলিশ ব্যবসায়ী স্ত্রী ও সন্তানদের ছেড়ে দিয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোন মামলা হয়নি।

এমআর