টানা বর্ষণে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। নগরীর প্রধান সড়কগুলো হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোথাও কোমর সমান পানির নিচে ডুবে আছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ। বর্ষণ এবং সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে যানবাহন চলাচলও অনেকটা বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়।

সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মহানগরীর, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বাদুরতলা, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দরহাট, শুলকবহর, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিভিন্ন নিচু এলাকা ও সড়ক প্রায় কোমর সমান পানিতে তলিয়ে আছে। যানবাহন চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে প্রবল বর্ষণ অব্যাহত আছে। শুক্রবার অফিস-আদালত ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন শ্রমজীবী মানুষগুলো। সড়ক ফাঁকা থাকলে জিইসি থেকে চান্দগাঁও মাত্র ৫ মিনিটের দূরত্ব। অথচ বৃহস্পতিবার রাতে সময় লেগেছে প্রায় ৩ ঘণ্টা। জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নগরীর বহদ্দার হাট থেকে দুই নম্বর গেট পর্যন্ত নগরীর মূল হাইওয়ে কোমরপানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শত শত যানবাহন এই সড়কে আটকা পড়ে আছে।

নগরীর কাপাসগোলা এলাকার অধিবাসী আবু সৈয়দ জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকেই নগরীর কাপাসগোলা চকবাজার এলাকা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে যায়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত অধিকাংশ ভবনের নিচতলা পানিতে ডুবে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে এই এলাকার অধিবাসীরা।

জানা গেছে, নগরীর বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট,  চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা, বাড়াইপাড়া, বাদুরতলা, ঘাসিয়ারপাড়া, চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, শুলকবহর, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, চানমিয়া সওদাগর রোড, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর আবাসিক এলাকা, হালিশহর জেলেপাড়া, পাঠানটুলি, বাকলিয়া, ডিসি রোডসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকা মূল সড়ক ও উপ-সড়ক হাঁটুপানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র চাকতাই-খাতুনগঞ্জ। এসব এলাকায় বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় জনদুর্ভোগ চরমে ওঠে। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজারে জলাবদ্ধতা ডিঙ্গিয়ে চলতে গিয়ে সড়কের ওপর অনেক যাববাহন বন্ধ হয়ে যায়। এতে যানজট তৈরি হয়।

ঢাকা, ২০ জুন (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেএ