চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে ৯ মে সোমবার বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল রুটে ২৪ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট আহ্বান করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন।
বৃহস্পতিবার (৫ মে) নগরীর বিআরটিসি মার্কেটে সংগঠনের কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা।
চট্টগ্রাম মহানগরীতে অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে বাধা দেয়ায় সিএমপির বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার এ অভিযোগ এনেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, হাইকোর্টের নির্দেশ উপেক্ষা করে অনিবন্ধিত সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী বলেন, হাইকোর্ট আদেশ দিয়েছে নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনিবন্ধিত অটোরিকশাগুলো নগরীতে চলাচলে পুলিশ কোন বাধা দিতে পারবেনা। কিন্তু সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে বহু সিএনজি অটোরিকশা তারা আটক করেছে। ৩০-৪০টিরও বেশি মামলা দিয়েছে। পুলিশ আদালত অবমাননা করছে। এর প্রতিবাদে আমরা ধর্মঘটে যাচ্ছি।
শুক্রবার (৬ মে) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মৃণাল চৌধুরী।
এর আগে বিকেলে ফেডারেশনের সভায় পরিবহন শ্রমিক নেতারা নগরীতে সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে কোন ধরনের বাধা না দেয়ার জন্য সিএমপির প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় সিএনজি অটোরিকশা চলাচলে বাধা না দেয়াসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবির মধ্যে আছে পুলিশের রিকুইজেশন ও টোকেন বাণিজ্য বন্ধ, পরিবহন শ্রমিকদের উপর শারীরিক নির্যাতনসহ পুলিশী নির্যাতন বন্ধ করা, চট্টগ্রাম বন্দরে গেইট পাশের নামে ট্রাক প্রতি অবৈধভাবে ৯৮ টাকা ও ভেতরে ইউনিয়নের নামে ১০ টাকা আদায় বন্ধ করা, মেঘনা ও গোমতি সেতুতে ট্যাংক লরি থেকে ৫০০ টাকার পরিবর্তে অবৈধ ১২৫০ টাকা টোল আদায় বন্ধ করা।
এসব দাবিতে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সকল রুটে ৯ মে যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী শ্রমিকদের ২৪ ঘণ্টা ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানান নেতারা।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন পূর্বাঞ্চল (চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ) কমিটির সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি হাজী রুহুল আমিন, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি রবিউল মাওলা, সাধারণ সম্পাদক অলি আহমদ, আবদুস সবুর, মো.হারুন, খোরশেদ আলম, হুমায়ুন কবির, মো.ইউসুফ, হারুনুর রশিদ, সুধীর দাশ, মো.ইয়াছিন, নুরুল ইসলাম, শফিকুর রহমান, শাহআলম হাওলাদার, নুর মোহাম্মদ, মো.সেলিম, কামাল উদ্দিন, মো.সোলায়মান, রফিকুল ইসলাম, ফারুক হোসেন।
এমআর





