পর পর দুই দিনের ভূমিকম্পে উপজেলার উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে ফাটল আরো বেড়েছে। সেমিপাকা ভবনটির দেয়াল, মেঝে ও সামনের বারান্দায় নতুন করে ফাটল দেখা দেয়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। ক্লাস রুমের অভাবে এখন শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে খোলা আকাশের নিচে। এছাড়া জামুর্কী উচ্চ বিদ্যালয়, গোড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কাটরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে আতংক দেখা দিয়েছে।

এদিকে, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিজয়া ছাত্রী হোস্টেলের ৫ তলা ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় ছাত্রীদের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ জরুরি সভা করে কলেজ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে এবং ছাত্রীদের দ্রুত হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। গতকাল সোমবার মেডিক্যাল কলেজে গিয়ে দেখা গেছে ছাত্রীরা হল ত্যাগ করছে। ছাত্রীরা জানিয়েছে, জয়া ও নীলিমা হোস্টেলও ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের অনুদানে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১২ সালে উত্তর পেকুয়া জাগরণী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভবন নির্মিত হয়। অভিযোগ আছে, ভবন নির্মাণে ঠিকাদার নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন। ব্যবহার করেছেন নিম্নমানের সামগ্রী। যার কারণে ২০১৪ সালে ভবনে ফাটল দেখা দেয়।

জেলা পরিষদে এ অভিযোগ জানানো হলে প্রকৌশলীরা ভবনটি পরিদর্শনে এসে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ঠিকাদারকে দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ঠিকাদার ভবনটি মেরামত করেননি। গত শনি ও রবিবারের ভূমিকম্পে ভবনটির চারপাশের দেয়াল ও মেঝেতে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে তিন শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী শ্রেণিকক্ষের অভাবে খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিরীন আক্তার ও বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. শামসুল আলম বিদ্যালয়টি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবি জানান।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, সরকারি সহায়তা পেলে বিদ্যালয়টিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হবে।

জেআই