সাংবাদিক নেতারা বলেছেন, সম্প্রচার নীতিমালার নামে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের কালো আইন করা হচ্ছে। আর এই কালো আইন বাতিল করেই রাজপথ ছাড়া হবে।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে রোববার দুপুরে সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদনের প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সমাবেশে বিএফইউজে’র একাংশের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, ‘সরকার তাদের অপকর্ম ঢাকতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সাংবাদিকরা তাদের অপকর্ম সম্পর্কে লিখছে এটা সহ্য হচ্ছে না। সরকার চায় শুধুমাত্র তাদের অনুগত গণমাধ্যম।’
‘গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত স্বাধীন গণমাধ্যম’ উল্লেখ করে যে কোনো মূল্যে গণমাধ্যম কণ্ঠরোধের এই কালো আইন প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তিনি।
‘এই নীতিমালা হলে সাংবাদিকদের কলম চলবে না মন্তব্য করে বিএফইউজে’র একাংশের মহাসচিব এম. এ. আজিজ বলেন, অনেক গণমাধ্যম বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বেকার হয়ে পড়বে সাংবাদিকরা। 'আমাদের রুটি-রুজির কথা চিন্তা করে হলেও এই আইন প্রতিহত করতে হবে।’
‘বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে গণতন্ত্রের নামে পুনরায় ৭৫-এর মতো বাকশাল কায়েম করতে চাইছে’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ডিইউজে’র একাংশের সভাপতি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, ‘আওয়ামী সরকার, গণতন্ত্র আর গণমাধ্যম পরস্পরবিরোধী। এই সরকারের সময়ে ২৪ জন গণমাধ্যম কর্মী নিহত এবং প্রায় দুই হাজার সাংবাদিক নির্যাতিত হয়েছেন। কিন্তু কোনো বিচার হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘চোর-ডাকাত-লুটেরাদের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো পদক্ষেপ নেই কিন্তু গণমাধ্যমের জন্য পিআইবি, প্রেস ক্লাব থাকা সত্ত্বেও এর ওপর হস্তক্ষেপ করছে।’
সকল জনতা-সাংবাদিকদের সাথে নিয়ে এই কালো আইনের কবর রচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি সকল সাংবাদিককে দল-মত নির্বিশেষে নিজের পেশাগত দায়িত্ববোধ থেকে এই আইন প্রতিহত করতে আহ্বান জানান।
সরকারকে উদ্দেশ করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদাল আহমেদ বলেন, ‘অবিলম্বে এই নীতিমালা বাতিল করে সর্বজনস্বীকৃত একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করে নীতিমালা করুন। আর তা না হলে অতীতে সকল অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা যেভাবে প্রতিরোধ করেছে ভবিষ্যতেও আন্দোলনের মাধ্যমে এই নীতিমালা প্রতিহত করা হবে।’
বিএফইউজে’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল্লাহ’র সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, ডিইউজে’র সাবেক সভাপতি আব্দুস শহীদ, বিএফইউজে’র সহ-সভাপতি রুহুল আমীন রোকন, ডিইউজে’র সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান প্রমুখ।
ঢাকা, ৯ আগস্ট, টাইমনিউজিবিডি.কম, জেএ





