সারদীয় দুর্গাপূজা ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানী জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

হিন্দু ও মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে তাদের এই দুটি ধর্মীয় উৎসব পালন করে থাকেন। আর পূজা ও ঈদ উপলক্ষে রাজধানী ঢাকা ও এর আশপাশ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে থাকছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে এবার ২১৯টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি সময়ে ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে একটি স্থায়ী ও ২০ টি অস্থায়ী কুরবানির পশুর হাট বসবে।

সব মিলে রাজধানীতে লোকে লোকারণ্য থাকবে এই কয়েকদিন। এ উপলক্ষ্যে রাজধানীবাসীর নিরাপত্তা দিতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার বেনজীর আহমেদ।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে পূজা ও ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, কুরবানীর পশুর হাট ও পূজা মন্ডপ এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগানো হবে। পূজা ও ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর শপিংমল গুলোতে ব্যাপক ভীড় হয়। সেখানে আলাদা নিরাপত্তা থাকবে। থাকবে সিসি টিভি। এছাড়া ব্যাংক বীমা, কর্পোরেট হাউস, সরকারি বেসরকারি স্থাপনা, ভবন, বাস ও লঞ্চ টার্মিনাল এবং রেল স্টেশন গুলোতে অতিরিক্তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ ও পূজা উপলক্ষে কোনো স্থানে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটে সেজন্য পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। কেউ নাশকতা বা চাঁদাবাজির খবর পেলে দ্রুত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য রাজধানীবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মহানগর কমিশনার বেনজীর।

তিনি আরও জানান, পূজা ও ঈদ কুরবানির হাট উপলক্ষে সৃষ্ট যানজট থেকে নগরবাসীকে রক্ষা করতে আলাদা ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পশুর হাটে আসার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কুরবানীর পশুবাহী ট্রাক গুলোর গন্তব্য কোন হাটে হবে তা জানান দেয়ার জন্য যেন ট্রাকের সামনে ব্যানার বা সাইনবোর্ড লাগানো হয় সে জন্য তিনি হাট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের প্রতি অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, বরাবরের মতো ঈদের জামায়াত ও পূজা মন্ডল এলাকায় যাতে কোনো ধরণের সমস্যা দেখা না দেয় সেজন্য সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।

পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধ ও জাল টাকা শনাক্তকরণে মেশিন বসানো হবে বলেও জানান ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ।

ঈদের ছুটিতে পরিবারের লোকজনকে আগে বাড়িতে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দিনে ৫০ লাখ লোককে বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার মতো পর্যাপ্ত যানবাহন আমাদের নেই। তাই আগেই পরিবারকে পাঠিয়ে দিলে যেতে অনেক সুবিধা হবে।’

অজ্ঞানপার্টির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘ইতোমধ্যে অজ্ঞানপার্টির ১১ জনকে গ্রফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’যাত্রাপথে হকার বা ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কোনো খাবার কিনে না খাওয়ারও অনুরোধ করেন তিনি।

ঢাকা, জেইউ, ২৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ