জেলা শহর, শহরতলির খানকাশরীফ, থানাপাড়া, পাশ্চিমপাড়া মহুরীপাড়া ও সরকারপাড়াসহ বেশ কিছু এলাকার সার্বিক ডায়ারিয়া পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। হঠাৎ করে এসব এলাকায় ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ডায়রিয়া প্রকোপ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৬০ জনে।

গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৫ ঘণ্টায় সোমবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত নতুন করে ৫০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ৮৪ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ডায়রিয়া বিভাগের ২০ শয্যায় জায়গা সংকুলানা না হওয়ায় ব্র্যাকের সহায়তায় হাসপাতালের খোলা জায়গায় তাঁবু টেনে দুটি অস্থায়ী ক্যাম্পে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালের সামনে ব্র্যাকের সহায়তায় অস্থায়ী ল্যাট্রিনের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। ফলে রোগী ও স্বজনরা ল্যাটিনগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারছেন না।

হাসপাতাল সূত্রে জনা গেছে, ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা শহরে ডায়রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকে রবিবার বিকেল পর্যন্ত (পাঁচ দিনে) গাইবান্ধা আধুনিক হাসপাতালে ৪৭৬ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। কয়েকদিনে হাসপাতালের আউটডোর থেকেও শিশু ও নারী-পুরুষসহ চার শতাধিক রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন।

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. এস আই এম শাহীন জানান, পাঁচ দিন ধরে অব্যাহত থাকা আকস্মিক ডায়রিয়ার মূল কারণ এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তবে ঢাকার মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি রোগ নির্ণয় বিভাগের (আইইডিসিআর) আগত বিশেষজ্ঞ টিমের সদস্যরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা অব্যাহত রেখেছেন।

তিনি আরও জানান, বাইরের অস্থায়ী ক্যাম্পের পরিবেশ রক্ষায় আমরা তৎপর আছি। ল্যাট্রিনের বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে বিষয়টি দেখে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অপরদিকে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বগুড়া জোনাল ল্যাবরেটরি থেকে দু’সদস্যের একটি দল শহরের ১৫টি পৃথক নলকূপের পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের বগুড়া জোনাল ল্যাবরেটরির সিনিয়র কেমিস্ট মো. আলাউদ্দিন খান জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা নমুনার রিপোর্ট উপস্থাপন করা হবে। তবে বন্যাজনিত কারণে পৌর পানি সরবরাহ প্রকল্পের পানিতে দূষণের সঙ্গে সঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকার টিউবওয়েলের পানিও দূষিত হয়ে থাকতে পারে।

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, হাসপাতালে রোগী আসার হার কিছুটা কমছে। ঢাকা থেকে আসা রোগতত্ত্ব রোগ নিরাময় ও গবেষণা কেন্দ্রের (আইইডিসিআর) আট সদস্যের দল এখনও কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে আসা দল প্রাথমিকভাবে ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার জন্য চারটি কারণ নির্ধারণ করেছেন। প্রথমত, আর্দ্র ও গরম আবহাওয়া, দ্বিতীয়ত, নাজুক স্যানিটেশন ব্যবস্থা, তৃতীয়ত, বন্যার কারণে জলাবদ্ধতা ও চতুর্থত, গৃহস্থালি কাজে দূষিত পানি ব্যবহার। দু-এক দিনের মধ্যে ডায়রিয়া পরিস্থিতি আরও উন্নতি হবে।

জেআই