পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ছোট্ট সোনার গাঁ-এর মতো ‘জিয়াখোর বিদ্যালীপাড়া’ একটি ছোট্ট গ্রাম।আর এ গ্রামের হাসঁ গুলো অনবরত ফেনসিডিল খাচ্ছে । এঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় হতবাক ও বিস্ময় প্রকাশ করেছে অনেকে। জেলা প্রানি সম্পদ কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম দু:খ করে বলেন মাদকের করাল গ্রাস কাউকে ছাড়ছে না।
এই বিস্ময়কর ঘটনা ঘটছে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের জিয়াখোর বিদ্যালীপাড়া গ্রামে।এ গ্রামের হাসেঁরখামার মালিক হারুন উর রশিদ বলেন, ওই গ্রামের মাঠ-ঘাট, খাল-বিল,নদী-নালা ও পুকুর সহ ফসলের ক্ষেতে ফেনসিডিলের খনি। তার হাঁস গুলো বাড়ির পাশে ডোবায় বিচরনের সময় ভেসে থাকা ফেনসিডিলের বোতলের মুখে ঠোকর মারে প্রতিদিন খায়। এই দৃশ্য দেখার জন্য অনেকে ভিড় করে।
ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র মনসুর আলি বলেন, কিছু বখাটে মানুষ ফেনসিডিল খায়। এখন দেখছি হাঁসও খাচ্ছে ।কলেজ শিক্ষক আব্দুস সামাদ জানান, ওই গ্রামে রিতিমত ফেনসিডিলের হাট বসে। শহর-বন্দর থেকে আসা উঠতি বয়সী তরুনরা ওই হাটের খরিদার। গ্রামবাসীরা জানায়, ৫-৬ বছর থেকে এই কারবার হয়ে আসছে তাদের গ্রামে।
উপজেলার আমজানখোর ইউপির সদস্য লাজিবুউদ্দিন বলেন,সীমান্ত ঘেষা বালিয়াডাঙ্গীর একশ্রেণীর মানুষের মাদকসহ বিভিন্ন পন্যের চোরচালান পেশায় পরিণত হয়েছে। তিনি জানান , প্রায় ৫শ’র বেশী মানুষ মাদক ব্যবসার সংগে জড়িত। স্থানীয় একটি উন্নয়ন সংন্থার প্রতিনিধি জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, নব্বই দশকে এই উপজেলার কালমেঘ ও লাহিড়ী হাটে অবৈধ ভাবে আসা ভারতীয় নানা পণ্যের পসরা বসতো। আর এ ভাবে ওই এলাকার কিছু মানুষ চোরাকারবারে জড়িয়ে পড়।
ইউপি চেয়ারম্যান মো. আকালু বলেন,সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দেয়ার পর চোরাচালান কমলেও মাদক কারবার কমছে না।তিনি জানান, গ্রাম গুলোতে এখন ইয়াবা ঢুকে পড়েছে।
সমাজকর্মী অ্যাড. ইমরান হোসেন চৌধুরী বলেন, বিপদগামীদের ওই পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি দাবি জানান ।
এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন,মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে ।
এমই/সোহেল





