বনানীর রেইন ট্রি হোটেলে ধর্ষণের শিকার দুই তরুণীর মামলা নিতে বিলম্ব, থানায় তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও সঠিক তদারকি না করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরমান আলীসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে পুলিশের তদন্ত কমিটি।

অভিযুক্ত অপর দুই কর্মকর্তা হলেন, বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল মতিন ও গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার মানস কুমার পোদ্দার।

গতকাল (সোমবার) তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের কাছে এ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

মোট ৭৫ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনের ৭৪ পৃষ্ঠায় তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

তদন্ত কমিটির প্রধান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

জন্মদিনের পার্টিতে গিয়ে গত ২৮ মার্চ রাতে রেইন ট্রি হোটেলে বন্ধুর যোগসাজশে ধর্ষণের শিকার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী।

গত ৪ মে তারা থানায় মামলা করতে যান। তবে পুলিশ দু`দিন পর মামলা নেয়। ওই সময় বনানী থানার ওসির বিরুদ্ধে প্রভাবশালী আসামিদের রক্ষায় ২৫ লাখ টাকা নেওয়া এবং ঘটনার শিকার তরুণীদের হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগ তদন্তে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মিজানুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। ওই কমিটির সদস্য ছিলেন ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় এবং যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

গতকাল দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মামলা নিতে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ব্যত্যয় হয়েছে। মেজর কিছু না হলেও আইনের মাইনর কিছু ব্যত্যয় হয়েছে। জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের ওপর আস্থা রাখুন। কারও কোনো আইনের ব্যত্যয় ঘটলে তার দায়িত্ব পুলিশ নেবে না। ন্যায়বিচার যেন নিশ্চিত হয়, সে জন্য কাজ করব।

নাম প্রকাশ না করে তদন্ত কমিটির এক সদস্য জানান, মামলা করতে গিয়ে দুই তরুণী হয়রানির যে অভিযোগ করেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে। এ জন্য বনানী থানার ওসি, পরিদর্শক (তদন্ত) এবং ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে প্রভাবশালী আসামিদের বাঁচাতে ওসির ২৫ লাখ টাকা নেয়ার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় গুলশান জোনের উপকমিশনার মোস্তাক আহমেদ ছুটিতে ছিলেন। ওই সময় ভারপ্রাপ্ত উপকমিশনারের দায়িত্বে ছিলেন মানস কুমার পোদ্দার। তিনি ঘটনাটি সঠিকভাবে তদারকি করেননি। ধর্ষণের ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পরও পুলিশের ওই কর্মকর্তা তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তা অবহিত করেননি। এজন্য তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এমএনজে