বৃহস্পতিবারের হরতালের সমর্থনে জামায়াতে ইসলামী রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বলে জানিয়েছে দলটি।
আজ (বুধবার) রাতে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার সহকারী এস এম আব্দুল্লাহ আরমান স্বাক্ষরিত এক প্রেসবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারি সেক্রটারি মাহফুজুর রহমান বলেছেন, “সরকার গণবিচ্ছিন্ন হয়ে ক্ষমতা হারানোর আতঙ্কে হিংস্র হয়ে ওঠেছে। তারা অবৈধ ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করতেই জামায়াতসহ বিরোধী দলের ওপর দলন-পীড়নের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। সে ষড়যন্ত্রের ধারাবাহিকতায় সরকার বয়োবৃদ্ধ জাতীয় নেতা ও আমিরে জামায়াত মকবুল আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সহ নেতৃবৃন্দকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের নামে হয়রানী করছে।”
তিনি দলটির আমিরসহ নেতৃবৃন্দের গ্রেফতারের প্রতিবাদে ও মুক্তির আগামীকালের সকাল-সন্ধ্যার হরতাল সফল করতে নগরবাসীর প্রতি আহবান জানান।
তিনি আজ (বুধবার) রাজধানীতে আমিরে জামায়াত মকবুল আহমদসহ নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার (১২ অক্টোবর) হরতালের সমর্থনে দলের ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক বিক্ষোভ পরবর্তী সমাবেশে একথা বলেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর ৬০ ফুট রাস্তা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাকা মসজিদের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেই দেশের গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধবংস করে দিয়েছে। গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। তারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা না বাড়লেও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
ক্ষমতাসীন দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বেপরোয়া লুটপাত, চাঁদাবাজী ও দুর্নীতিতে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়েই স্থবিরতা নেমে এসেছে। এমতাবস্থায় জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহের জন্যই সরকার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমিরে জামায়াত সহ শীর্ষনেতাদের গ্রেফতার করে নির্যাতন চালাচ্ছে।” তিনি সরকারের দেশ ও জাতিস্বত্ত্বাবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উত্তরা, বিমানবন্দর, বাড্ডা, রমনা, তেজগাঁও, বনানী, ভাষানটেক-কাফরুল, পল্লবী-রূপনগর, রামপুরা, আদাবর, তুরাগ, মিরপুরও জামায়াতে ইসলামী রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।
মিরপুর পশ্চিম:
হরতালের সমর্থনে মিরপুর পশ্চিম থানার উদ্যোগে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি কল্যাণপুর নতুন বাজার থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাজ লেনে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারি সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন মিরপুর পশ্চিম থানা সেক্রেটারি নাজমুস সা’দাত, থানা শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য এ্যাডভোকেট গাজী মাহফুজুর রহমান, জামায়াত নেতা শামসুল ইসলাম, মাওলানা গোলাম মাসুম চৌধুরী ও ছাত্রশিবিরের মিরপুর পশ্চিম থানা সভাপতি গাজী আব্দুল হান্নান প্রমূখ।
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সমাবেশের শেষ পর্যায়ে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ৪ জনকে গুরতম আহত করে। পরে তারা প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পুলিশ ১ জনকে গ্রেফতার করেছে।
রমনা:
দলের আমিরসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ডের প্রতিবাদে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ১২ অক্টোবর হরতালের সমর্থনে রমনা থানার উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি মগবাজার রেল গেইট থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চৌরাস্তায় এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা আমীর আহসান হাবীব।এসময় উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির এম জে রহমান, সেক্রেটারি এম এ রহমান, থানা কর্মপরিষদ সদস্য এম ইউ আলী ও সুলতান মাহমুদ প্রমুখ।
তেজগাঁও:
হরতালের সমর্থনে তেজগাও থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ফার্মগেইট এলাকা থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিজয় সরণীতে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে নেতৃত্বদেন থানার নায়েবে আমীর। উপস্থিতি ছিলেন থানা সেক্রেটারি সহ স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ।
বনানী:
হরতালের সমর্থনে বনানী থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাখালী কাঁচা বাজার থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা আমির সাইফুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন- মাহমুদুর রহমান আযাদ, জামায়াত নেতা শোয়েব আখতার ও ছাত্রনেতা জাকির হোসেন প্রমূখ।
ভাষানটেক-কাফরুল:
হরতালের সমর্থনে কাফরুল-ভাষানটেক থানার যৌথ উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ১০ নং গোল চত্তর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ঢকা মহানগরীর মজলিশে শুরা সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম। উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা আলাউদ্দীন মোল্লা, আব্দুল মতিন, শাহ আলম, খান হাবিব ও ছাত্রনেতা রকিব মামুন প্রমূখ।
পল্লবী-রূপনগর:
হরতালের সমর্থনে পল্লবী ও রূপনগর থানার যৌথ উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলট ফল পট্টি থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন পল্লবী থানা আমির আশরাফুল আলম। উপস্থিত ছিলেন- রূপনগর থানা আমির নাসির উদ্দীন, জামায়াত নেতা সাইফুল কাদের, জামাল উদ্দীন, মোশাররফ হোসেন ও আব্দুর রহান প্রমুখ।
রামপুরা:
রামপুরা থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ করেছে দলটি। মিছিলটি বনশ্রী থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে রামপুরা ব্রিজে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি এইচ ঈমাম। উপস্থিত ছিলেন- জামায়াত নেতা এস ইসলাম, এফ এ ফজলু, ইঞ্জিনিয়ার এ রশিদ, এম শামীম, এস এম মনির, এইচ রহমান, ছাত্রনেতা ফারুক ও মর্তুজা প্রমূখ।
আদাবর:
আদাবর থানার উদ্যোগে হরতালের সমর্থনে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন- থানা সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ সাকিব, হাসান তারেকম, ছাত্রনেতা আশরাফুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমূখ।
তুরাগ:
হরতালের সমর্থনে তুরাগ থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা আমির মেসবাহ উদ্দীন নাঈম।
বিমানবন্দর:
হরতালের সমর্থনে বিমানবন্দর থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি আশকোনা বাজার মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশে মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা আমীর এ্যাডভোকেট ইব্রাহিম খলিল। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃবৃন্দ।
বাড্ডা:
হরতালের সমর্থনে বাড্ডা থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি বাড্ডা বাজার থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা সেক্রেটারি।
উত্তরা পূর্ব:
হরতালের সমর্থনে উত্তরা পূর্ব থানার উদ্যোগে নগরীতে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি রাজলক্ষীমোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন থানা আমির প্রফেসর মাহবুব মুকুল। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জামায়াত-শিবির নেতৃব্ন্দৃ।
এছাড়াও রাজধানীর ভাটারা, শাহ আলী, গুলশান ও মোহাম্মদপুর থানায় হরতালের সমর্থনে মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এমবি





