গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাগুড়িয়া গ্রামের লুৎফর রহমান কন্তি। এ নামে এলাকার কেউ তাঁকে চেনে না। তাঁর পরিচয় তিনি ‘এক টাকার মাস্টার’। প্রতিদিন সকালে ফজরের নামাজ পড়ে বাড়ি থেকে বের হন। সারা দিন মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ান এবং তার বিনিময়ে নেন প্রতিদিন এক টাকা। দিনে অন্তত ৩০টি শিক্ষার্থীকে পড়ালে তার ঐদেন আয় হয় ৩০ টাকা।
এভাবে সুদীর্ঘ জীবন অতিবাহিত করছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে তাঁকে নিয়ে ।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলা প্রশাসক, গাইবান্ধার নজরে আসেন এই মানুষ গড়ার কারিগরের কথা।সাথে সাথেই উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গাইবান্ধা সদরকে তাঁর সম্পর্কে খোঁজ খবর নেয়ার দায়িত্ব প্রদান করেন এবং একই সাথে তাঁর সাথে দেখা করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।
প্রতিসপ্তাহের ন্যায় বুধবার জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে চলছিল গণশুনানি। সকলের জন্য দুয়ার খোলা। এমন সময় দারজায় এসে দাঁড়ালের একজন বয়স্ক ব্যক্তি। বললেন ‘মে আই কাম ইন স্যার?’ জেলা প্রশাসক মহোদয় তাঁকে ভেতরে ডাকলেন। তার পর লোকটি বললেন ‘আমি এক টাকার মাস্টার’ সাথে সাথেই হাত বাড়িয়ে দিলেন জেলা প্রশাসক মহোদয় এবং তাঁকে নিজের সামনের চেয়ারে বসালেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে কথা বললেন তাঁর সাথে।
বিস্তারিত কথা শুনে তাকে নগদ ১০,০০০/- টাকা প্রদান করলেন এবং তাঁর জন্য একটি নতুন ঘর নির্মাণ, নতুন একটি মোবাইল এবং ফেয়ার প্রাইজ কার্ড প্রদানের ব্যাপারে আশ্বস্ত করলেন। অচিরেই তাঁর গৃহ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।
রুবেল/জারিফ





