ঈদ উল ফিতরের ছুটিতে লাখ লাখ মানুষের বাড়ি ফেরা ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যাওয়ার পথে মঙ্গল ও বৃহস্পতিবারের মাঝে কমপক্ষে ২৩ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। সেই সঙ্গে আহত হয়েছেন আরও ৯৯ জন।
ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, বগুড়া, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা ও সিলেটে এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মধ্যে নয়জনই ছিলেন মোটরসাইকেল আরোহী। বার্তা সংস্থা ইউএনবি এ তথ্য দিয়েছে।
ঢাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার থেকে পড়ে গিয়ে মোটরসাইকেল আরোহী এক কলেজছাত্র নিহত এবং দুজন আহত হন। নিহত ইমন (২২) শনির আখড়া এলাকার জেরিন মিয়ার ছেলে। তিনি সিদ্ধেশ্বরী কলেজেন শিক্ষার্থী ছিলেন।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বৃস্পতি ও মঙ্গলবার পৃথক দুই সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা যান।
উল্লাপাড়া উপজেলার হরিণচড়া বাজার এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে চালকসহ এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হন। বৃহস্পতিবার সকালে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার কলেন সরদিয়া গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে ও অগ্রণী ব্যাংকের কর্মকর্তা এমারুল হোসেন (৪২) এবং প্রাইভেটকারের চালক রুবেল (৪৫)।
এর আগে মঙ্গলবার ভোরে রায়গঞ্জ উপজেলার শিমলা নামক স্থানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসের সঙ্গে মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে দুই ভাই নিহত হন। তারা হলেন- ইকবাল (২৬) ও সোহাগ (২০)। তাদের বাড়ি দৌলতখানের সৈয়দপুর ইউনিয়নে।
বগুড়ায় শেরপুর উপজেলার মাহিপুরে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আরও ২০ জন আহত হন। নিহত শহিদুল ইসলাম (৩৫) একই উপজেলার বাসিন্দা।
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরে বুধবার রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। আহত হন আরও দুই মোটরসাইকেল আরোহী। নিহতরা হলেন- পিরোজপুর জেলার মহাদেব সাহার ছেলে স্বপন সাহা (২৫) ও আফজাল খানের ছেলে শাওন খান (২৪)।
ঝিনাইদহে কোটচাঁদপুর উপজেলার খোর্দ্দ-খালিশপুর এলাকায় বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সাথে ধাক্কা লেগে দুই আরোহী নিহত এবং একজন আহত হন। নিহতরা হলেন- উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আলিম হোসেনের ছেলে বিপলু হোসেন (২০) ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রানা (১৩)।
ফরিদপুর সদর উপজেলায় ধুলদী রেলগেট এলাকায় বুধবার সকালে যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছয়জন নিহত এবং আরও ১৫ জন আহত হন।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। নিহতরা হলেন- চাল্লিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও বামনমোহন গ্রামের শফিকুল ইসলাম।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে এক গৃহবধূ নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। নিহত খুর্শেদা বেগম (২০) সুনামগঞ্জ সদর থানার বেড়িগাঁও গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী।





