বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র অংশীদারিত্ব সংলাপ বুধবার থেকে ঢাকায় শুরু হচ্ছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মূল্যয়ান সংক্রান্ত কর্মকর্তা পর্যায়ের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ এ সংলাপ ষষ্ঠবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে এটি তৃতীয় সংলাপ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সংলাপে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের যৌথ স্বার্থ ও সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয় প্রাধান্য পাবে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে উপস্থাপন করবে বাংলাদেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং তথ্য বিনিময় সংক্রান্ত নানা বিষয় আলোচনায় স্থান পাবে।
জানা যায়, সংলাপের সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন সেদেশের স্টেট ডিপার্টমেন্টের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি থমাস এ শ্যানন। আর বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক। সংলাপ ৫ নভেম্বর শেষ হবে। মাঝে ২ থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনের বিরতি থাকবে।
আলোচনায় যা থাকছে: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ দমনসহ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রসঙ্গই এবারের সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপে সন্তুষ্ট যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু দেশটি মনে করে, এ অঞ্চলে এখনও জঙ্গিবাদের বড় ঝুঁকি রয়ে গেছে। এরই মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা এ অঞ্চলে জঙ্গিবাদের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ কারণে সংলাপে নিরাপত্তা ইস্যুর আলোচনাতেই রোহিঙ্গা ইস্যু সমান গুরুত্ব পাবে। রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়টি সংলাপে তোলা হবে।
সূত্র আরও জানায়, ১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা,শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক ব্যুরোর ভারপ্রাপ্ত সহকারী সেক্রেটারি সাইমন হেনশ'ও ঢাকায় অবস্থান করবেন। তিনি মিয়ানমার সফর শেষে ঢাকায় আসবেন। ফলে সংলাপে রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়টিই মুখ্য হয়ে উঠবে।
সংশ্নিষ্ট অপর সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ঢাকা মিশনের কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান খুনের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিতই তথ্য নিচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধাসহ এ দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
এ ছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, উচ্চশিক্ষা, কৃষি, অভিবাসন, সমুদ্রভিত্তিক ব্লু ইকোনমি, শান্তিরক্ষা বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সার্ক, বিম্সটেক, আসেমেসহ আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতা ফোরামের কার্যক্রম ও বিভিন্ন চুক্তির হালনাগাদ তথ্যও সংলাপে উপস্থাপিত হবে।
জানা যায়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলোচনার যত ক্ষেত্র আছে, তার মধ্যে যৌথ অংশীদারিত্ব সংলাপ সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ।
রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে এবারের সংলাপটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নেও এটিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএ





