পদ্মার অব্যাহত ভাঙনে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ঘাটটি শনিবার দুপুরে ফের বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল রোববার বিকেল পর্যন্ত তা চালু হয়নি। এ ছাড়া ৪ নম্বর ঘাটের সড়কটি ভাঙনের কবলে পড়ে সরু হয়ে গেছে। এতে ফাটলও দেখা দিয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ঘাটটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছিল। 

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীর ভাঙনে গত শনিবার দুপুরে বন্ধ হওয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাট গতকাল রোববারও চালু করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ৪ নম্বর ঘাটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের সড়ক বিলীন হওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে এটিও বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। গতকাল সেখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছে। চালু থাকা অপর দুই ঘাটের পরিস্থিতিও ভালো নয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সূত্র বলেছে, দৌলতদিয়ার চারটি ঘাটের মধ্যে ১ নম্বর ঘাটটি সচল রয়েছে। মাঝেমধ্যে ভাঙনের কারণে সড়ক ধসে যাওয়ায় রাম সামনের দিকে টেনে ঘাট চালু রাখা হচ্ছে। ২ নম্বর ঘাটটি ছোট (ইউটিলিটি) ফেরির জন্য তৈরি করা হলেও সেখানে তীব্র স্রোত থাকায় ছোট ফেরি ভিড়তে পারছে না। বাধ্য হয়ে সেখানে মাঝেমধ্যে একটি মাত্র মাঝারি (কে-টাইপ) ফেরি ভিড়ছে। ৩ নম্বর ঘাটটি শনিবার দুপুরে ভাঙনে বন্ধ হয়ে যায়। গতকালও সেটি চালু করা যায়নি। ৪ নম্বর ঘাটের সওজের সড়কের অনেকটা ভেঙে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে এটি বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুপুর থেকে সেখানে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।

দুপুরে দেখা যায়, সবকটি (চারটি) ঘাটের কাছে জিও ব্যাগ স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ৪ নম্বর ঘাটে কয়েকজন শ্রমিক জিও ব্যাগে বালু ভরে ভাঙন স্থানে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ সময় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক জিনাত আরা, পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী গৌড় পদ সূত্রধর, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম নূরন্নবী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ ঘোষ, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম মণ্ডল ঘুরে ঘুরে তদারকি করেন। স্থানীয় অনেক মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন প্রতিরোধে পাউবো কর্মকর্তারা ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ জানান।

পাউবোর রাজবাড়ীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এস এম নূরন্নবী বলেন, ইকো সাউন্ডার যন্ত্র দিয়ে পানির গভীরতা মাপার পর কাজ শুরু করা হবে। শনিবার দুপুরে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ফেরিঘাটের ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার পর তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পাউবোকে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপর থেকে জরুরি সংস্কারকাজ হিসেবে ৪ নম্বর ঘাট থেকে ৩৫০ মিটার এলাকাজুড়ে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঈদের আগে আপাতত পাঁচ হাজারের মতো বস্তা ফেলা হবে। ঈদের পর ভাঙন প্রতিরোধে পুরোদমে কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, অর্থ বরাদ্দ না থাকায় এর আগে কাজ শুরু করা যায়নি।

৪ নম্বর ঘাটে সড়ক ভেঙে সংকুচিত হওয়া প্রসঙ্গে সওজের রাজবাড়ীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহরিয়ার রুমী বলেন, সড়কটি ভাঙতে ভাঙতে দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ অনেক কমে গেছে। তবে পাশ দিয়ে করা নতুন ইটের রাস্তা এখনো সুরক্ষিত রয়েছে। পাউবো যদি ঘাট সংরক্ষণের জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সড়কটি রক্ষা পাবে। এরপর তাঁরা সড়কের কাজ শুরু করতে পারবেন।

 

এসএ